স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও

 স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও


প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর) তার জন্য মাহরাম থাকবে নাকি তিনি নন মাহরাম বলে গণ্য হবেন?

উত্তর:

স্বামীর পিতা (শ্বশুর) চিরকালের জন্য মাহরাম পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত যদিও তার স্বামীর সাথে তালাক সংঘটিত হয়ে গিয়ে থাকে অথবা স্বামী মৃত্যু বরণ করে থাকেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, 

وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ 

"(এবং তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত সন্তানদের স্ত্রীগণকে।" [সূরা নিসা: ২৩]


◍  শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,


: لا حرج عليك في الكشف لوالد زوجك السابق؛ لأنه محرم لك ولو طلقك ابنه، وزيارته في الأوقات المناسبة مع زوجك أو محرمك مناسبة، إذا كان من أهل الصلاح والخير، وهكذا لو زرته لوحدك إذا كان منزله قريبًا لا يحتاج إلى سفر ولا كلفة، بشرط أن يرضى زوجك بذلك

وفق الله الجميع لما يرضي

“আপনার প্রাক্তন স্বামীর পিতার সামনে মুখমণ্ডল খোলা বা বেপর্দা হওয়ায় কোনও অসুবিধা নেই। কারণ তিনি আপনার মাহরাম (তার সাথে চিরকালের জন্য বিয়ে হারাম) যদিও তার ছেলে আপনাকে তালাক দিয়েছে। অত:এব আপনার জন্য আপনার (নতুন) স্বামীর সাথে বা কোনও মাহরামের সাথে গিয়ে উপযুক্ত সময়ে তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা বৈধ-যদি সে নেককার ও সৎ হয়।

একাকীও তার বাড়িতে দেখা-সাক্ষাত করতে পারেন-যদি তার বাড়ি কাছাকাছি হয় এবং সেখানে যেতে সফর বা কষ্ট করতে না হয়। তবে শর্ত হল, এতে আপনার স্বামীর সম্মতি থাকতে হবে। আল্লাহ সকলকে ঐ কাজ করার তওফিক দান করুন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হোন।”

[মাজমু ফাতাওয়া ও মাকালাত শাইখ বিন বায (শাইখ বিন বায রাহ.-এর ফতোয়া ও প্রবন্ধ সমগ্র) ২১/২২। ফতোয়া প্রদানের তারিখ: ২৩/২/১৪১৮ হিজরি]


উল্লেখ্য যে, 

 ◆ স্বামীর সাথে কেবল আকদ সংঘটিত হলেই তার পিতা (মহিলার শ্বশুর) চিরকালের জন্য হারাম হয়ে যাবে-চাই দাম্পত্য জীবন শুরু হোক অথবা না হোক। অর্থাৎ যদি কোনও কারণে বিয়ের ইজাব-কবুল হওয়ার পরপরই এবং দাম্পত্য জীবন শুরু করার পূর্বে তাদের মাঝে তালাক সংঘটিত হয়ে যায় তারপরও উক্ত মহিলার জন্য তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর) চিরতরে হারাম বলে গণ্য হবে। সুতরাং তাদের মাঝে স্থায়ীভাবে বিয়ে বন্ধন হারাম।


 ◆ অনুরূপভাবে স্ত্রীর সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে বা স্ত্রী মৃত্যু বরণ করলেও তার মা (শাশুড়ি) এবং তার দাদি-নানিগণ (দাদি শাশুড়ি ও নানি শাশুড়িগণ) উক্ত পুরুষ ব্যক্তির জন্য মাহরাম বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ তাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ এবং তাদের সামনে কোনও পর্দা নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা যে সকল মহিলাদেরকে পুরুষদের জন্য বিয়ে করা হারাম করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হল, স্ত্রীর মা এবং দাদি-নানিগণ। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ

“(আরও হারাম করা হয়েছে), তোমাদের স্ত্রীদের মাগণ (তথা জন্মদাত্রী মা এবং দাদি-নানিগণ)কে।” [সূরা নিসা: ২৩]

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল



 রাতের ফযিলতপূর্ন কিছু আমল

________________________________

১. ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে

নেয়া । -(বুখারীঃ ৬৩২০)


২. ঘরের দরজা আল্লাহর নামে বন্ধ

করা । -(বুখারীঃ ৫৬২৩)


৩. শয়নের সময় দু'আ পাঠ করা (যেমনঃ

'আল্লাহুম্মা বিসমিকা আ'মুতু ওয়া

আহইয়া') । -(বুখারীঃ ৬৩১৪)


৪. ডান কাৎ হয়ে শোয়া । -

(বুখারীঃ৬৩১৫)


৫. নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে হলে

শরীরের নাপাক স্থান ধুয়ে অযু করে

নেয়া । -(বুখারীঃ ২৮৮)


৬. সাধারণত সতর খুলা অবস্হায় না

শোয়া । -(তিরমিযীঃ ২৭৬৯)


৭. বিনা কারণে উপুড় হয়ে না শোয়া

। -(তিরমিযীঃ ২৭৬৮)


৮. ঘুমানোর সময় আগুনের বাতি

জ্বালিয়ে না রাখা । 

-(তিরমিযীঃ১৮১৩)


৯. দুঃস্বপ্ন দেখলে পার্শ্ব পরিবর্তন

করে শোয়া । -(মুসলিমঃ ৫৯০১)


১০. দুঃস্বপ্ন দেখলে প্রথমে বাম

দিকে তিনবার থুথু ছিটা এবং

"দুঃস্বপ্ন ও শয়তান থেকে -

হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট আশ্রয়

চাই" এভাবে তিনবার বলা । দুঃস্বপ্ন

কাউকে না বলা । -(মুসলিমঃ ৫৯০২)


          (১১) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেছেন, 

যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, একজন ফেরেস্তা তার পাশে থেকে সারা রাত তাকে  পাহারা দিবে, এবং শয়তান সারা রাত তার নিকটে যেতে পারবেনা না।


__________(বুখারি-২৩১১)।


         (১২) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, 

যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত (আ-মানার রাসূলু–) তেলাওয়াত করবে এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে ।


__________(বুখারি- ৪০০৮)।


         (১৩) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেছেন, 

রাতে (কুল ইয়া আইয়্যু হাল কা-ফিরুন) (অর্থাৎ সূরা কা-ফিরুন) পাঠ করা শির্ক থেকে মুক্তি পেতে 

উপকারী হবে। 


__________(সহীহ তারগীব-৬০২)।


         (১৪) একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার সাহাবাদের বললেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে সমর্থ হবে? এতে সকলের কাছে বিষয়টি ভারী মনে হলো। বলল, একাজ আমাদের মধ্যে কে পারবে, হে আল্লাহর রাসূল?! তিনি বললেন, সূরা ইখলাস হল এক তৃতীয়াংশ কুরআন।


__________(বুখারী- ৫০১৫)


         (১৫) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘য়া টি বলতেন।


ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑِﺎﺳْﻤِﻚَ ﺃَﻣُﻮﺕُ ﻭَﺃَﺣْﻴَﺎ


(আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া)।


❛হে আল্লাহ্! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো❜। 


__________(বুখারি- ৬৩২৪)।


           (১৬) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) হযরত আলী এবং ফতেমা (রাঃ)- কে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্, এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার বলবে, তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে। 


__________(বুখারী- ৩৭০৫)।


            (১৭) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেন, 

যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সূরা মূলক) পাঠ করবে এর মাধ্যমে মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। 


__________( এছাড়াও তিরমিজি-২৮৯০)।


      ➤ আল্লাহ্ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুক,, ❤

  🌸  আমিন। 🌼

"

 “যে নিয়মিত কুরআন পড়ে, তাকে বুদ্ধিমত্তার নেয়ামত দেওয়া হবে; যদিও তার বয়স ২০০ বছর হয়।”

.

— মুহাম্মাদ ইবনু কাব রাহিমাহুল্লাহ

সূত্র: আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/২৭০


 

 "তুমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছো?

সেটা কাউকে বুঝতে দিও না, কারণ লোকে ভেঙে যাওয়া বাড়ির ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।"


ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﺷْﻜُﻮ ﺑَﺜِّﻲ ﻭَﺣُﺰْﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ


"আমি তো আমার দুঃ'খ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি!"


~(সূরা ইউসুফ, আয়াত ৮৬)।


বিপদে-মুসিবতে যখন কেউ মানুষের সাথে কিছু শেয়ার না করে শুধু আল্লাহর কাছেই চোখের পানি ফেলে, তখন আল্লাহ্ ভীষণ খুশি হন!!


সবচেয়ে বড় স্বস্তি এটাই যে, "আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে দুঃ'খ ক'ষ্টে ফেলেন!"


~(বুখারি, হাদিস নং: ৫৬৪৫)।


 একদিন ঠিকই আফসোস করবো!

১: ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম জেনেও আমি ফজরে ঘুমিয়ে ছিলাম।

২: কুরআন তিলাওয়াতে অন্তরে প্রশান্তি আসে, তারপরও আমি কুরআন ত্যাগ করেছিলাম।

৩. আল্লাহর যিকির আমার সারাদিনের কাজেকর্মে বরকত আনে জেনেও, অলসতা করে যিকির ছেড়েছি।

৪. ইস্তেগফারে আমার রিযিক বৃদ্ধি জেনেও, গাফেল থেকেছি।

৫. তাহাজ্জুদ আমার জন্য শান্তি, শৃঙ্খলা, সুস্থিরতাসহ আরো অসংখ্য উপকারিতা নিয়ে আসে জেনেও, আমি এমন মহার্ঘ তাহাজ্জুদও আমি হেলাভরে ছেড়ে দিয়ে ঘুমিয়েছি।

৬. তাওবার দরজা সদা-সর্বদা উন্মুক্ত, আমি আজ করছি, কাল করছি করে শুধু পিছিয়েছি।

৭. গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গুনাহ ত্যাগ করলে, আল্লাহ আমার বিপদ দুর করে দিতেন। আমার দুশ্চিন্তা লাঘব করতেন। এটা জেনেও আমি গুনাহে অনঢ় থেকেছি। গুনাহে লিপ্ত থেকেছি।

৮. যে কোনো ভালো কাজ করলেই আমি জান্নাতের আরেকটু কাছে চলে যেতাম। জাহান্নাম থেকে দূরে সরে আসতাম। এটা জেনেও আমি উদাসীন থেকেছি। 

একদিন ঠিকই আফসোস করবো।
ইয়া আল্লাহ সুমতি দান করুন। আমীন।

- শায়খ আতীক উল্লাহ

Follow Ya Ummati 
Join Ya Ummati 

#yaummati024

 [সৌদি রাষ্ট্র কর্তৃক নর্তকীদের দ্বারা কাবার অবমাননা]

---লিখেছেন: শায়েখ أحمد الدمنهوري حفظه الله 


জাতির ধ্বংস সাধন শুরু হয় নৈতিক পতনের মাধ্যমে। আত্মমর্যাদাহীনতা, নিজেকে দুর্বল ও পরাধীন মনে করা, স্বাধীনতা ও প্রতিযোগিতার আকাঙ্ক্ষার অভাব, এবং সেই সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ থাকা যা অন্যরা নির্ধারণ করেছে—এসবই জাতির পতনের সূচনা চিহ্ন।


নৈতিক অপমান মানে ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া। বিজয়ী কখনো শত্রুর ইচ্ছাশক্তি ভেঙে না দিয়ে জয়লাভ করতে পারে না। তবে কি এখন আমরা যে জাতিগত নৈতিক পতন দেখছি, তা কি শারীরিক ধ্বংসের পূর্বাভাস? জাতি কি নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শারীরিকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে?


রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম জাতির ধ্বংস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:

"أوَّلَ النَّاسِ هلاكًا فارسُ ، ثم العَرَبُ ، إلَّا بقايا هاهنا يعني : الشَّامَ"!

"সবচেয়ে আগে ধ্বংস হবে পারস্য, তারপর আরব, তবে কিছু অংশ টিকে থাকবে—তারা শামের লোক।" 


(আল ফিতান লি নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ:৫৬, আহমাদ: ১০৬৫৫, ২৪৪৫৭, বাজ্জার: ৯৬৫২, ৯৬৬২। বাজ্জার আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনার‌ (৯৬৬২) রাবীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন)


তিনি আরও বলেছেন,

(ولن يَستَحِلَّ البيتَ إلَّا أهلُه، فإذا اسْتَحَلُّوه ؛ فلا تَسأَلْ عن هَلَكةِ العَرَبِ)

"কাবা ঘরের প্রতি অবমাননা করবে শুধু তার লোকেরা। আর যখন তারা তা করবে, তখন আরবের ধ্বংস সম্পর্কে প্রশ্ন করো না।" (আহমাদ:৭৯১০, ৮১১৪, ৮৩৫১, ৮৬১৯, সনদ সহীহ)


এখানে বোঝা যায়, কিছু ঘটনা সংঘটিত হবে যার মাধ্যমে জাতির একাংশ ধ্বংস হবে, তারপর আরেক অংশ। আরবদের ধ্বংসের দুটি চিহ্ন দেওয়া হয়েছে:

১. পারসিদের ধ্বংস।

২. কাবাঘরের পবিত্রতার লঙ্ঘন।


এই উভয় ঘটনাই অনেক দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। পারমাণবিক প্রকল্পসহ ইরানের বিরুদ্ধে কাজ চলছে, আর কাবাঘরের চারপাশে তার মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।


রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের রোগ নির্ণয় করে তা থেকে বাঁচার চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

"যখন তোমরা সুদের মাধ্যমে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ ধরে কৃষিকাজে মত্ত হবে, এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান চাপিয়ে দেবেন যা তিনি সরাবেন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজের ধর্মে ফিরে আসো।"


এখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। "গরুর লেজ অনুসরণ করা এবং কৃষিকাজে সন্তুষ্ট থাকা" বলতে বোঝানো হয়েছে এমন জীবনধারা, যেখানে মানুষ দুনিয়ার আরাম-আয়েশে নিমগ্ন থাকে। আজকের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অবস্থাও এমন, যেখানে তারা মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত সম্পদে সন্তুষ্ট এবং তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।


এর মূল রোগ হলো—দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং তার স্থায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা।

আর চিকিৎসা হলো—জিহাদ। জিহাদ মানে এখানে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প গ্রহণ করা যার মাধ্যমে জাতি প্রতিযোগিতার ময়দানে টিকে থাকতে পারে। যখন সেই প্রকল্প প্রতিযোগিতার পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা সামরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করার প্রয়োজন হবে, যেমনটি অন্যান্য জাতিগুলো করে।


আজকের মুসলিম জাতির সমস্যা হলো তাদের কোনো আন্তর্জাতিক প্রকল্প নেই, তাদের নেতারা দিশাহীন। তাই যুবসমাজ বিভ্রান্ত, কেউ হতাশায় ভুগছে, কেউবা শারীরিক ভোগ-বিলাসে মত্ত। আর কিছু নেতা এমন আচরণ করছেন, যেন তারা টিকে থাকার জন্য শুধু জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করাই যথেষ্ট মনে করছেন। এটি একেবারে "মুলূকুত তাওয়াইফ" (ছোট ছোট স্বার্থান্ধ রাজ্যসমূহের যুগ)-এর শেষ সময়ের মতো।


যদি জাতির একটি সমষ্টিগত লক্ষ্য থাকত, তাহলে যুবসমাজের শক্তি তুচ্ছ বিষয়ের পেছনে নষ্ট না হয়ে সেই লক্ষ্যে ব্যবহৃত হত। জাতি তখন এই হতাশা থেকে বের হয়ে এসে বিশ্বব্যাপী নীতির পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত।


যে জাতির নিজস্ব প্রকল্প নেই, সে অন্যদের প্রকল্পের অংশ হয়ে থাকবে। এটাই বাস্তবতা, এবং তা আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট।


আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।


©


 জিজ্ঞেস করা হলো, সিজদার ক্ষমতা কতটুকু? 

জবাবে বলা হলো,

সাড়ে ছয়শ পাখা থাকা সত্বেও জিবরাঈল আ.যে দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হননি কখনো,,,


বান্দার এক সিজদাহ অনায়াসেই সেই  দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম! 

সুবহানাল্লাহ

 হযরত আলী (রাঃ) এর অবিস্মরণীয় ঘটনা

নবীজীর জামাতা হজরত আলী রা.। তিনি তখন রাষ্ট্র প্রধান। মুসলিম বিশ্বের অধিপতি। হজরত আলীর একটি লৌহবর্ম হারিয়ে যায়। পান একজন ইহুদি। তাও সেই ইহুদি কুফার বাজারে লৌহবর্মটি বিক্রি করছে।


হজরত আলী নিজের লৌহর্বম বিক্রি করতে দেখে ইহুদিকে বলেন, �লৌহবর্মটি তো আমার। আমি এটা কারও কাছে বেচিওনি, কাউকে দানও করিনি। এটা আমার উটের পিঠ থেকে অমুক দিন অমুক স্থানে পড়ে গিয়েছিল। সুতরাং লৌহবর্মটি ফিরিয়ে দিন�। ইহুদি বলল এটা আমার জিনিস, আমার হাতে। হজরত আলী বললেন, লৌহবর্মটি আমাকে ফিরিয়ে দিন! বর্মটি আমারই!


ইহুদির সঙ্গে রাজ্যপ্রধানের তর্কে সমাধান হচ্ছে না। হজরত আলী বললেন, চলো তাহলে বিচারপতির আদালতে! আইনি লড়াইয়ে সমাধান করে আসি। উভয়ে মদিনার বিচারপতি হজরত সুরাইহ রা. আদালতে হাজির। হজরত আলী রা. কে বিচারপতি জিজ্ঞাসা করলেন, আমিরুল মুমিনিন! আপনার বক্তব্য কী? তিনি বললেন, তার কাছে যে বর্মটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমার।


এটা আমার উটের পিঠ থেকে অমুক দিন অমুক স্থানে পড়ে গিয়েছিল। বিচারপতি হজরত সুরাইহ রা. ইহুদির কাছে তার বক্তব্য জানতে চান। ইহুদি বলেন, দেখুন এটা আমারই। কারণ আমার দখলেই তা রয়েছে। দখল যার সম্পদ তার!


 সব শোনার পর বিচারপতি সুরাইহ বললেন, আমিরুল মুমিনিন সাক্ষি পেশ করুন! হজরত আলী বললেন, আমার ছেলে হাসান এবং আমার আজাদকরা ক্রীতদাস কুনবুর সাক্ষি!


বিচারপতি হজরত সুরাইহ রা. বললেন, আমিরুল মুমিনিন পিতার পক্ষে পুত্রের সাক্ষ্য এবং মনিবের পক্ষে গোলামের সাক্ষ্য গ্রণযোগ্য নয়। তারপর বিচারপতি হজরত সুরাইহ রা. ইহুদির পক্ষে রায় দেন।


 আইনি লড়াই হেরে গেলেন হজরত আলী রা.! তবে জয় হয়েছে ইসলামের। রায় শুনে সেদিন এই ইহুদি বলেছিল, আমিরুল মুমিনিন আমাকে আদালতে নিয়ে এলেন। আদালত আপনার বিপক্ষে রায় দিল। অথচ আপনি রাষ্ট্র প্রধান। বাইশ লক্ষবর্গ মাইলের মুসলিম বিশ্বের অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ইসলাম সত্যধর্ম। আমাকে এই সত্যধর্মের কালিমা পড়িয়ে দিন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা ও রাসুল! আমিরুল মুমিন! এই লৌহবর্ম আপনার। রাতের অন্ধকারে পড়ে গিয়েছিল।🙂🌸

hhকক

মসজিদে নববীতে রাসূল (স.) খেজুরগাছের ডালে শুয়ে আছেন। এমন সময় ওমর (রা.) আসায় তিনি উঠে দাঁড়ালেন। হযরত ওমর দেখলেন রাসুলের পিঠে দাগ পড়ে গেছে। এতে ওমর (রা.) কান্না শুরু করে দিলেন।


রাসূল (স.) কান্নার কারণ জানতে চাইলে, ওমর (রা) বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! কিসরা ও কায়সারের রাজারা কত আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করেন। অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল। পুরো দুনিয়ার নেতা। আপনি এভাবে জীবন কাটাচ্ছেন? 


প্রিয় নবী হাসিমুখে জবাব দেন- হে ওমর "তুমি কি এটা ভেবে খুশি নও- তারা দুনিয়াতে উপভোগ করুক আর আমরা আখিরাতে?  (বুখারি-৪৩৫)

ngfngf

 fgnfgn

dfhbfdh

 dfhgdfh

fgbn

 gfcbnfgcnbfg

 vcbvf

  হযরত মোহাম্মদ সাঃ। হযরত ইদ্রিস আলাইহি সাল্লাম। হযরত ঈসা আলাইহি সাল্লাম। এই তিন জন নবী আল্লাহুর আরশে জীবিত গিয়েছেন। ইদ্রিস আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরশেই ইন্তেকাল করেছেন। আর ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আবার ফিরে আসবেন। 🤲🤲🤲

  কোন চোগলখোর 

জান্নাতে প্রবেশ করবেনা

(সহীহ মুসলিম:১৯২)

  অবশ্যই তা হারাম যদি তা তাহাজ্জুদের নামাজ ডাকার জন্য হয়েও থাকে,,, 


ব্যাখ্যা: আমরা মনে করি যে আমি রিলেশন করি হালাল পন্থায় শারীরিক মেলামেশা তো করি না তাহাজ্জুদের জন্য দুজন দুজনকে ডাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি আমরা মনে হয় আল্লাহর কাছে পাপী হিসেবে গণ্য হব না কেউ যদি এমন ভেবে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন আপনি ভুলের স্বর্গে বাস করছেন,

 

"যে বান্দা যে বান্দি বিবাহ বহির্ভূত কোন সম্পর্কে জড়িত হয় নিঃসন্দেহে তা হারাম ব্যাস আর কোন কথা নেই যদি আপনি কোন যুক্তি দেখান ধরে নিবেন আপনার ঈমানের সমস্যা আছে।"


-ওমর ফারুক

 রাসূল (সাঃ) এক ব্যক্তিকে অপরজনের মুখোমুখি প্রশংসা করতে দেখলে বলতেন, হায় হায়.! তুমি তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেললে। 


সহীহ বুখারীর - ২৬৬২


 বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এমন একটা মেশিনে পরিণত হতে যাচ্ছে যেখানে মুসলমানের সন্তান ঢুকলেও অটোমেটিকালি মুরত|দ হয়ে বের হবে। 


বিভিন্ন কালচারাল ফেস্টের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মালম্বীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া, ডিবেটের নামে সমতন্ত্রের পক্ষ নিয়ে কুফরে লিপ্ত হওয়া, একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করার জন্য শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়বস্তুর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া, বিভিন্ন কুফরি আইডলজিসহ ঈমান বিধ্বংসী বিভিন্ন আকিদা যেমন: সেক্যুলারিজম, বিবর্তনবাদ, শরীয়াহর বিপরীতে মানবরচিত আইনের শ্রেষ্ঠত্ব, অকাট্য হারামকে স্বাধীনতা, ফরজ ইবাদতকে চয়েস মনে করা ইত্যাদি বিষয়ে লিপ্ত হয়ে ঈমানহারা হচ্ছে হাজার হাজার মুসলিম সন্তান। 


যেখানে ঈমান নিয়ে টানাটানি হচ্ছে সেখানে পাপাচারের আলাপ টেনে আনাটাও বিলাসিতা বিধায় এসব আপাতত বাদই দিলাম। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে ঈমান হারিয়ে অনেকে টেরই পাচ্ছে না, ঈমান নবায়ন করছে না। বাকিজীবনটা এভাবেই কেটে যাচ্ছে। 


দ্বীনের খেদমত করার জন্য দ্বীনের বাইরে যাওয়া, কুফরি করা, শিরক করা যদি জায়েজ হতো তাহলে ঈমান আর কুফরের কোনো সংঘর্ষ থাকত না। দুটো পাশাপাশিই চলতো। অথচ ঈমান এবং কুফর দুটো কিছুতেই একত্রে থাকতে পারে না।

 বিপদের চূড়ান্ত পর্যায়ে আল্লাহর সাহায্য আসে!

(সূরা ইউসুফ:১১০)

নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেন আর ফলাফলের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবেন না ইনশাআল্লাহ।

 যার প্রেমে পড়লাম!


একটা সময়ে সবকিছুই সুন্দর থাকে, অনুকূলে থাকে। কম বয়সে মানুষের চৌকস চেহারা ও শক্তি-সামর্থ্যতে ভরা থাকে। কিন্তু সময়ের কাছে সবই ধরা। সময় চলে গেলে সব চলে যায়। ভারতের তারকাদের দিকে তাকান, বিগবস অমিতাব বচ্চন থেকে শুরু করে সম্রাট শাহরুখ খানের পর্যন্ত বয়স চলে গেছে। আগে তারা যতটা দুনিয়া কাঁপাতেন এখন আর পারেন? না। তাদের কি টাকার অভাব আছে? না। টাকা দিয়ে কি তাদের সেই জৌলুস, চৌকস যৌবন বা দুনিয়া মাতানো ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন? না। কিছুই পারা যাবে না। 


পৃথিবীর মধ্যে একজন মানুষ আছেন,  তাঁর মরা*র পর তাঁর প্রেমে পড়েছি আমি। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়েছি। তিনি হলেন ভারতের রতন টাটা। কিছুদিন আগে তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। ইয়াং কালে তাঁর যে চেহারা-সুরাত, ফিগার বলেন আর চোখের চাহনী সবকিছুতেই তিনি ছিলেন এক কথায় অসাধারণ ! 

তাঁর জীবন কাহিনি ও মৌলিক যে রুচিবোধ ছিল তেমনটা পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া বিরল। পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ ধনীদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। অথচ তাঁর চালচলনে, অভিব্যক্তের ফুটে উঠেছে এক মহাকালের শ্রেষ্ঠত্ব। কীভাবে নিজেকে তিনি একটা মার্জিত অভিরুচির গণ্ডির মধ্যে রাখতে পেরেছেন তা ভাবতেই আমি বহুবার অবাক হয়েছি। নিজের কার্য বা অভ্যাসগুলোর সঙ্গে মিলাতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি প্রচণ্ডভাবে। তিনি জীবনে অনেক কিছুর স্বপ দেখেও ছুঁতে পারেন নি এক ভাগ্যের অলৌকিকতার কশাঘাতে। সময়টা পার হয়ে গেছে। এক বুক দুঃখ বা আকাঙ্ক্ষা নিয়েই হয়তো তাঁর প্রস্থান হয়েছে। কী অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন ছিলেন তিনি! ভারতের যেসব শীর্ষ ধনী রয়েছেন বর্তমানে, তাঁদের যে সম্পত্তির বা টাকার পরিমাণ তারচেয়েও বেশি রতন টাটা ডোনেট করেছেন। চিন্তা করেন! অথচ এই মানুষ শেষ বয়সে একটা জন্মদিনে একটা কাপ কেক কেটে একটুকরো মুখে নিয়েছেন। অথচ আরেক ধনী মোকেশ আম্বানি তাঁর ছেলের বিয়েতে বিশ্ব রেকর্ড ব্রেক করেছেন খরচে। 600 million খরচ করেছেন যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কারোর রেকর্ডে আছে বলে আমার জানা নেই। আপনাদের জানা থাকলে বলবেন। 


তো যা বলছিলাম এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন মানুষেরও সময় চলে গেছে স্বপ্ন পূরণের চরম অপূর্ণতা নিয়ে। 


এই যে হেমন্ত এসেছে কী তার সৌন্দর্য ! অল্প কিছুদিনের জন্য সেই সৌন্দর্যের স্থায়ীত্ব। সময় গেলেই সব শেষ। কেউ কি পারবে পৃথিবীর সব অর্থ খরচ করেও প্রাকৃতিকভাবে হেমন্তের এই সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে? না। 


এই যে ধরেন ট্রাম্প কাক্কু জিতলেন। তাঁরও একটা নির্দিষ্ট ম্যানমেড সময় রয়েছে শাসনকার্য পরিচালণার। চার বছর পর তাঁকে বিদায় নিতে হবে। সেই তো সময়ের অবধারিত নিয়েমেই শেষ হবে তাঁর কার্য। জীবনটাও তো তেমনি। চুল কাঁচা থাকার সময় শেষ হবে। দাঁত গালে থাকার সময় শেষ হবে। গায়ের শক্তি শেষ হবে। মনের জোর শেষ হবে। জাগতিক ও প্রাকৃতিক অসংখ্য আগ্রহে ভাটা পড়বে। কিছুই কিন্তু বাকি থাকবে। 


সবকিছু শেষ হতে পারে কিন্তু একটা অসাধারণ ব্যক্তিত্বের ক্ষয় নেই। পালাক্রমে সবকিছু চলে গিয়ে ফের ফিরে আসে। আসবে অনন্তকাল। টাকা গেলে টাকা আসে। হেমন্ত গেলে হেমন্ত আসে। কিন্তু দুইটা জিনিস গেলে কখনোই ফিরবে না। এক; সময়। দুই; ব্যক্তিত্ব। 


আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।

টরন্টো, কানাডা।

নভেম্বর ৭, ২০২৪


ফটোগ্রাফি বাই মি।

 আপনার পেশা যদি যেকোন হালাল পেশা হয়, তাতে আপনি সম্মানিত বোধ করতে পারেন। আর যদি পেশার পাশাপাশি ভালো সামাজিক অবস্থানও থাকে, তবে আপনার উচিত আল্লাহর দরবারে অতিরিক্ত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, ব্যবহারে অতি বিনয়ী থাকা। 


কিন্তু অহংকারী হবার কোনো যুক্তি নেই।


যদি আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা উচ্চপদে থেকে নিজেকে বিশেষ কিছু ভাবেন এবং অন্য পেশাজীবী বা কম শিক্ষিত মানুষকে হেয় করেন, তবে আপনার সেই শিক্ষিত বা ভালো ক্যারিয়ারের পরিচয়ের গর্ব অহংকারে পরিণত হচ্ছে।


অহংকারী ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া থেকে বিনয়ী সবজি বিক্রেতা হওয়া অনেক উত্তম। এতে অন্তত জান্নাত হারানোর ভয় থাকে না, আল্লাহ'র দ্বারা লাঞ্চিত হবার সুযোগ থাকে না৷ 


যদি আপনার মধ্যে বা আপনার আচার আচরণে 'বিন্দুমাত্র'ও অহংকার থাকে, তবে আপনি দ্বীনদার নন—যত বড়ই সেলেব্রিটি হন না কেন। আপনার পোস্টে যত বেশিই লাইক কমেন্ট শেয়ার পড়ুক না কেন৷


Shah Mohammad Tonmoy ©️


 এই যে সুন্দর জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে!

অথচ নেক আমল তেমন নেই।


মিথ্যা মায়া আর ভালোবাসার পিছে ছুটেই চলেছি রোজ।

মৃত্যু যে খুব নিকটে তা ভুলে বসেছি মিথ্যা মায়ায় পড়ে।


নিরন্তর ছুটে চলা ছলনাময় পৃথিবীতে কি

আবার সুযোগ দেওয়া হবে মৃত্যুর পর ফিরে আসতে আমল করতে…?


উওর না,তা কখনো সম্ভব না। 

এটা আমরা জেনেও ডুবে আছি মিথ্যে মায়ার দুনিয়ায়।


বিবেকের ঘুম ভাঙবে কবরের প্রথম প্রহরে।

হায় আফসোস কতই না ভয়াবহ হবে সেই মূহুর্ত যখন দেখব আমলনামায় কিছুই নাই। এক বুক অনু'শোচনা নিয়ে সেদিন দাঁড়াতে হবে রাব্বে কারিম এর সামনে।


কুরআনের আয়াতে আছে।


یٰقَوْمِ اِنَّمَا هٰذِهِ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا مَتَاع

 ۫ وَّ اِنَّ الْاٰخِرَۃَ هِیَ دَارُ الْقَرَارِ ﴿۳۹﴾


হে আমার কওম!

এই পার্থিব জীবন তো তুচ্ছ ভোগ মাত্র।

নিশ্চয়ই আখেরাতই অবস্থিতির প্রকৃত নিবাস। 


[সূরা মু'মিন - ৩৯]

©️

 বর্তমান বিশ্ব শেষ বিশ্বযুদ্ধের জন্য গুছিয়ে আসছে। কিন্তু কে হবে এই যুদ্ধের মহান বিজয়ী? খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে যিশু? নাকি ইহুদি বিশ্বাসমতে— মালেকুস সালাম তথা দাজ্জাল?  আসলেই কি তাই?

কিন্তু 

নবীজির ভবিষ্যৎবাণী— এই যুদ্ধে আমরাই পরিধান করব বিজয়ীর মুকুট। আমাদের নেতৃত্বের শূন্য আসনে মহাশক্তি নিয়ে আসীন হবেন ইমাম মাহদী আ.। 


প্রিয় পাঠক,

বিজয় এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসাবে আমাদেরকে অবগত থাকতে হবে সন্নিকটে দাঁড়িয়ে থাকা দাজ্জালি শক্তি, তাদের শক্তির মূল উৎস, এবং তাদের নির্ধারিত টার্গেট সম্পর্কে। চোখ রাখতে হবে পশ্চিমাবিশ্বের অকল্পনীয় ষড়যন্ত্র এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘৃণ্য বাস্তবতার দিকে। 

আর এর জন্য আপনার উত্তম পাঠ হতে পারে বিখ্যাত গ্রন্থ, জ্ঞান ও চিন্তার জগত দ্য ব্যাটল অব আরমাগেডন বইটি। 


ইহুদিদের স্বপ্নের জগত ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ নামক ‘দাসত্বের পৃথিবী’ সম্পর্কে জানতে তহা নাসীমের ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ হতে পারে আপনার ঐতিহাসিক চিন্তাপত্র।


বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইহুদি চক্রান্ত ও তাদের শেকড় সম্পর্কে জানতে, ঈমান বিধ্বংসী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঈমান বাঁচানোর অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইহুদি চক্রান্ত বইটি।

যেখানে আপনি পাবেন—বিশ্বব্যাপী ইহুদিবাদী চক্রান্তের নীলকালো নকশা ও মুসলিম সমাজে ঘাঁটি গাড়তে থাকা ইহুদি সংস্থার আদ্যোপান্ত।


 নেকাব খুলতে বলায় এয়ারপোর্ট থেকেই ফিরে গেলেন এক মুসলিম নারী!


এই মুসলিম নারী তিউনিসিয়া থেকে বেলজিয়ামে এসে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত গিয়েছেন। কারন এয়ারপোর্টে তাঁকে নেকাব খুলার জন্যে বলা হয়, আর এই পর্দাশীল নারী নেকাব খুলতে অস্বী'কৃতি জানান। শুধু তাই নয়, ব্রাসেলস এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষ এই নারীকে আলাদা কোন রুমে নিয়ে নারী কর্মকর্তা দিয়ে চেক করতে অস্বী'কৃতি জানান।


পর্দাশীল এই নারীও জনস'ম্মুখে এবং কোন পুরুষের সামনে নেকাব খুলতে ইচ্ছুক নন, তাই উনি বেলজিয়ামে প্রবেশ না করে ব্রাসেলস এয়ারপোর্ট থেকেই আবার তিউনিসিয়ায় ফিরে যান। সংখ্যাগ'রিষ্ট খৃস্টান দেশের একজন সংখ্যাল'ঘু মুসলিম নারী হওয়ার পরও পর্দার প্রতি তাঁর সম্মান ও ধর্মভীরুতায় সত্যি মুগ্ধ। আল্লাহ তা'আলা আমাদের মা বোনদেরকে সঠিক পর্দায় রাখা এবং পর্দা করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।


সুত্র : আল জাজিরা

Courtesy : Dawah Min Al-Qalb - دعوة من القلب

 "প্রতিরাতের শেষ তৃতীয়াংশে প্রথম আসমানে এসে আল্লাহতায়ালা বলেন, কে আছো এমন,যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব।যে যা চাইবে, তাই দিব"।সুবহানাল্লাহ 


(সহীহ বুখারী -১১৪৫),


আজকে জুমুয়ার রাত, যাদের সম্ভব হবে, তাহাজ্জুদ নামাজের পরে দোয়া করুন, সবার জন্য। সকল কবর বাসিকে আল্লাহ মাফ করুন, আমাদের মাফ করুন। আ-মি-ন,,,

 মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- 

তুমি ওই দিনকে ভয় করো , যে দিন তোমার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে আর তোমার হাত পা তোমার ক্রিত কর্মের সাক্ষী দিবে ।

--- সুরা ইয়াসিন (৬৫)

 খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমিরুল মুমিনীন! একটু থামুন। পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।"


খলিফা বললেন, "বলো কি জানতে চাও?"


বহলুল (রহঃ) বললেন, "মনে করুন আপনি প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে এমন মাঠে আছেন যেখানে পানি নাই। পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন অবস্থায় আপনি এক গ্লাস পানির জন্য কতটা মূল্য ব্যয়  করবেন?"


খলিফা বললেন, "যেহেতু পানি না পেলে আমার মৃত্যু হবে তাই আমার পুরো সম্পত্তিও ব্যয় করে দিতে পারবো।"


হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "ঠিক আছে এবার বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করেন।"


খলিফা পানি পান করলেন। এবার হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমার আর একটি প্রশ্ন আছে।"


খলিফা বললেন, "বলো।"


বহলুল (রহঃ) বললেন, "এই পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বের হয়, পেটেই জমা থাকে। প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়, সেই পানি বের করবার জন্য কত টাকা ব্যয় করবেন?" 


-প্রসাব বন্ধ হলে তো আমি সহ্য করতে পারবো না। মারা যাবো। জীবন বাঁচাতে একজন ডাক্তার যতটা চায় ততটাই দিবো। আমার পুরো রাজত্ব চাইলেও দিয়ে দিবো।"


হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, তাহলে বোঝা গেল আপনার পুরো রাজত্ব এক গ্লাস পানির দামের সমানও নয়। মাত্র এক গ্লাস পানি পান করতে বা বের করতে আপনি পুরো রাজত্বও দিয়ে দিতে চান। তাহলে কত গ্লাস পানি নিয়মিত পান করেন আর বের করেন, এটা একটু ভাবেন আর এই নেয়ামত যিনি দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করেন।"


সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ

 খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমিরুল মুমিনীন! একটু থামুন। পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।"


খলিফা বললেন, "বলো কি জানতে চাও?"


বহলুল (রহঃ) বললেন, "মনে করুন আপনি প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে এমন মাঠে আছেন যেখানে পানি নাই। পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন অবস্থায় আপনি এক গ্লাস পানির জন্য কতটা মূল্য ব্যয়  করবেন?"


খলিফা বললেন, "যেহেতু পানি না পেলে আমার মৃত্যু হবে তাই আমার পুরো সম্পত্তিও ব্যয় করে দিতে পারবো।"


হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "ঠিক আছে এবার বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করেন।"


খলিফা পানি পান করলেন। এবার হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমার আর একটি প্রশ্ন আছে।"


খলিফা বললেন, "বলো।"


বহলুল (রহঃ) বললেন, "এই পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বের হয়, পেটেই জমা থাকে। প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়, সেই পানি বের করবার জন্য কত টাকা ব্যয় করবেন?" 


-প্রসাব বন্ধ হলে তো আমি সহ্য করতে পারবো না। মারা যাবো। জীবন বাঁচাতে একজন ডাক্তার যতটা চায় ততটাই দিবো। আমার পুরো রাজত্ব চাইলেও দিয়ে দিবো।"


হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, তাহলে বোঝা গেল আপনার পুরো রাজত্ব এক গ্লাস পানির দামের সমানও নয়। মাত্র এক গ্লাস পানি পান করতে বা বের করতে আপনি পুরো রাজত্বও দিয়ে দিতে চান। তাহলে কত গ্লাস পানি নিয়মিত পান করেন আর বের করেন, এটা একটু ভাবেন আর এই নেয়ামত যিনি দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করেন।"


সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ


 আপনার সন্তানের গলায় একটি তাবিজ ঝুলিয়েছেন ❓


তাবিজ শিরক! বাচ্চাদের কপালে টিপ দেওয়া, সুতা বাঁধা ইত্যাদি শিরক।


(আহমাদ, ১৬৭৬৩) (আহমাদ,১৬৭৭১) (মিশকাত,৩৫১) (মিশকাত,৪৫৮৪) 


শিরক সবচেয়ে বড় পাপ। (সূরা লোকমান, ১৩)

হাশরের মাঠে সব পাপ ক্ষমা হতে পারে, শিরক ব্যাতীত। 


(মিশকাত, ২৩৩৬) (সূরা নিসা, ১১৬)


শিরকের ডিজিটাল প্রকাশ


স্রষ্টা যেসব বস্তুতে যে কল্যাণ রাখেন নি তাতে সে কল্যাণ থাকার আকীদা পোষণ করা শিরক 


আল্লাহ তাআলা এ বিশ্ব ও তার মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তু সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তিনি যে কল্যাণ যে বস্তুর মধ্যে রাখেন নি, ঐ বস্তু সেই উপকারই করতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করে। এরূপ বিশ্বাস শির্কের পর্যায়ভুক্ত। 


যেমন, বহু লোক তাবীয-তুমার, শির্কী ঝাড়-ফুঁক, বিভিন্ন প্রকার তাগা ও খনিজ পাথর ব্যবহার করে থাকে। তাদের বিশ্বাস, এতে রোগ-বালাই কাছে ভিড়তে পারে না।


 আর যদি রোগ হয়েই থাকে তবে এগুলো ব্যবহারে সুস্থতা ফিরে আসে।


 এগুলো ব্যবহারের পিছনে গণক, জাদুকর প্রমুখ শ্রেণির পরামর্শ অথবা যুগ পরস্পরায় চলে আসা বিশ্বাস কাজ করে।


অনেকে বদ নযর এড়ানোর জন্য বাচ্চা ও বড়দের গলায় এসব ঝুলিয়ে দেয়, শরীরের অন্যত্রও বেঁধে রাখে (যেমন গলা, হাত ও কোমরে)। গাড়ী-বাড়ীতেও তাবীয ও দোআ-কালাম লিখিত কাগজ ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। 


এতে গাড়ী-বাড়ী দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় বলে তাদের বিশ্বাস।


অনেকে আবার রোগের হাত থেকে উদ্ধার পেতে কিংবা রোগ যাতে হতে না পারে সে জন্য কয়েক প্রকার ধাতু নির্মিত আংটি পরে থাকে (যেমন অষ্টধাতুর আংটি প্রভৃতি)। 


এর ফলে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। 


এসব তাবীযের অনেকগুলোতেই স্পষ্ট শির্কী কথা, জিনের নিকট ফরিয়াদ, সূক্ষ্ম নকশা ও অবোধ্য কথা লেখা থাকে। 


অনেক জ্ঞানপাপী শির্কী মন্ত্রের সাথে কুরআনের আয়াত মিশিয়ে দেয়। কেউ কেউ নাপাক দ্রব্য, ঋতুস্রাবের রক্ত ইত্যাদি দিয়েও তাবীয লেখে। 


এ ধরনের তাবীয, তাগা, আংটি ঝুলানো কিংবা বাঁধা স্পষ্ট হারাম।


 রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,


مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ


যে ব্যক্তি তাবীযের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নিলো সে নিশ্চয় শির্ক করল।


তাবীয ব্যবহারকারী যদি বিশ্বাস করে যে, এসব জিনিস আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়াই উপকার কিংবা অপকার করে, তাহলে সে বড় শির্ক করার দোষে দুষ্ট হবে। 


আর যদি সে বিশ্বাস করে যে, এগুলো উপকার-অপকারের একটি উপকরণ মাত্র। অথচ আল্লাহ তাআলা এগুলোকে রোগ বিনাশ সংক্রান্ত কোনো উপকার বা অপকারের উপকরণ করেন নি, সেক্ষেত্রে সে ছোট শির্কের গুনাহ করার দোষে দুষ্ট হবে।


 আর তখন এটি কারণ উদ্ভূত শির্কের পর্যায়ভুক্ত হবে।

আল্লাহর উপর ভরসা করা ব্যক্তি কখনো তাবিজ তুমার ব্যবহার করে না, এমনকি ঝাড় ফুঁক ও না


ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,


 আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। আর এসব লোক তারাই যারা ঝাঁড়ফুঁক করে না। অশুভফল গ্রহণ করে না। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে’ 

(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৯৫)।

আপনি ফেইসবুক‌ স্ক্রল করছিলেন, 

হঠাৎ দেখলেন আপনার বেকার বন্ধুটি খুব ভালো একটি চাকরি পেয়ে গেছে। আপনি মনে মনে বলে উঠলেন, "আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহুম্মা বারিক! হে আল্লাহ, আমার বন্ধুটির আয় রোজগারে বরকত দিন এবং তাকে কর্মজীবনে অনেক উন্নতি করার তৌফিক দান করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"


আপনার বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াত পাওয়ার পর আপনি মন থেকে দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আমার বান্ধবীর দাম্পত্য জীবন আপনি সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"


আপনি পার্কে হাঁটছিলেন, দেখলেন ফুটফুটে একটি বাচ্চা খেলা করছে। আপনি বাচ্চাটির উদ্দেশ্যে দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! শিশুকে সুস্থ-সবল রেখে নেক হায়াত দান করুন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"


বাসায় ফেরার সময় দেখলেন এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে আছে। আপনি তাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করার পর তার জন্য দোয়া করলেন, " হে আল্লাহ! আপনি লোকটিকে সুস্থতা দান করুন এবং তার জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট দূর করে দিন।" সাথে সাথে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, "আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক।"


আমি কিন্তু কোনো রূপকথার গল্প বলছি না। আমাদের সাথে ঠিক এমনটাই হয়। এই মর্মে একটি হাদিস আছে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:

কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা তার দোয়ার সময় আমীন বলতে থাকেন। যখনই সে তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন, আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ। [সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৮৯৫]


আমাদের সমাজটা হিংসা-বিদ্বেষে ভরে গেছে। আমরা অন্যের ভালো সহ্য করতে পারিনা। কারো ভালো দেখলে দোয়া করা তো দূরের কথা বরং অনেকে অন্যের সুখ নষ্ট করার জন্য কালো জাদুও করে! অথচ আল্লাহর দেওয়া বিধান কতই না চমৎকার! অন্যের ভালো চাইলে, অন্যের জন্য ভালো দোয়া করলে, তাতে বরং নিজেরই উপকার হয়। কেননা, ফেরেশতাদের দোয়া তো কখনো বিফল হয়না। 


এই সুন্দর হাদিসটি না জানার কারণেই হয়ত অনেকে মনে এখনো হিংসার ময়লা রয়ে গেছে। তাই পোস্টটি কপি বা শেয়ার করে সবার কাছে রাসুল (ﷺ)-এর বাণী পৌঁছে দিন। কে জানে?হয়ত আপনার করা একটি শেয়ারই অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে।

 


 জ্বী প্রত্যেকটা গুনাহ এক একটা দরজা।

আপনি গুনাহ থেকে দূরে থাকুন শয়তান আপনার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ...!


 ইসলামি শাসন ছাড়া পৃথিবীর সকল শাসন অবৈধ। কারণ তা পৃথিবীর স্রষ্টার পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়।


- আহমাদ রফিক ( হাফি. )

 একদিন হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহকে জিঙ্গেস করলেন:


"হে আল্লাহ আপনি যখন খুশী হন তখন কি করেন?

তখন আল্লাহ তা আলা বললেনঃ

"আমি তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষন করি।"

তখন মূসা আঃ আবার প্রশ্ন করলেনঃ

"আর যখন আপনি এরচেয়ে বেশি খুশি হন তখন কি করেন"?

উত্তরে আল্লাহ তাআলা বলেন"তখন আমি তোমাদের ঘরে মেহমান প্রেরণ করি। "

মূসা (আঃ) আবার প্রশ্ন করলেন

"হে আল্লাহ আপনি যখন সব চাইতে বেশি

খুশী হন তখন কি করেন?

অতঃপর আল্লাহ তাআলা জবাব দেন

"আমি তোমাদের ঘরে কন্যা সন্তান দান করি"।


শোকর আলহামদুলিল্লাহ ❤️ ❤️ ❤️। কন্যা সন্তান আল্লাহর দেওয়া সবচাইতে বড় নেয়ামত।


 আপনি ভাইবেন না দাজ্জাল আপনার সামনে এসে বলবে, ‘আমারে অনুসরণ করো৷’ দাজ্জাল আসার পূর্বে ফেতনার মাধ্যমে প্রথমে আপনার চিন্তা শক্তি ইসলাম থেকে দূরে সরাবে৷ চিন্তা শক্তি দূরে সরাতে না পারলেও ফেতনায় আপনার চারপাশে এমন এক পরিবেশ বানাবে, যে আপনি চাইলেও মুখ দিয়ে আল্লাহর নাম নিতে পারবেন না৷

আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস চেঞ্জ করাবে৷ আপনার মতো হাজার হাজার, বিলিয়োন মানুষ যখন দাজ্জালের ফেতনায় ডুবে যাবে৷ তখন অই ফিলিস্তিনের আল আকসা ভেঙে যে টেম্পল বানানোর প্লান ইসরায়েলের, সেই টেম্পল দিয়ে আবির্ভাব ঘটবে দাজ্জালের৷ 


দাজ্জালের ফেতনা এত ভয়ানক যে আল্লাহর কাছে আপনি ক্ষমাও চাইতে পারবেন না কারণ আপনি তখন উঠে পড়ে যাবেন হারামকে হালালের জন্য, হালালকে হারামের জন্য৷ সমাজে হারাম, এমনভাবে হালাল হবে আপনি বুঝবেনও না কোনটা হারাম, কোনটা হালাল৷


আপনি জানবেনও না আপনি দাজ্জালকে কিভাবে অনুসরন করছেন, কিন্তু একনিষ্ঠভাবে দাজ্জালের সৈনিক হয়ে যাবেন৷ আপনার আল্লাহর নাম নিতে লজ্জা লাগবে৷ যে আল্লাহর নাম নিবে, তাকে আপনার ক্ষ্যাত মনে হবে৷ কোনো বন্ধু গ্রুপে আল্লাহ নিয়ে কথা হবে না৷ অস্বস্তি কাজ করবে সবার৷ আল্লাহ ও তার রাসুল যা মানা করেছে, সেসবে আপনার স্বস্তি কাজ করবে৷ 


নবীর ওয়ারিশ আলেম৷ আলেমদের প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে৷ একশটা আলেমের মধ্যে দশটা জাহান্নামি আলেমের কারণে  নব্বইটা আলেমকে দেখলেই নাক চেটকানো শুরো করবেন, গালাগালি করবেন৷ একদল উঠে পড়ে লাগবে আলেমদের দোষ ধরার পিছনে৷ এভাবে আস্তে আস্তে আলেমদের থেকে বিশ্বাস উঠিয়ে নিবে৷ আপনাকে বানাবে ধর্মীয় জ্ঞান শূন্য৷

আপনার ইসলাম থেকে চিন্তা শক্তি দূরে সরে যাবে৷


আপনাদের কি দাজ্জালের ফেতনা জোকস মনে হয়? দেবর ভাবির মতো পবিত্র একটা রিলেশন৷ এটা যে খারাপ এঙ্গেলে যাচ্ছে, গিয়েছে৷ এটা কি জোকস মনে হয়? স্টেপ ফাদার, মাদার ইসলামে বৈধ জিনিস যে ইয়াং জেনারেশনের ব্রেইনে সেক্সুয়েল ফান এর পর্যায়ে গেছে এটাকে কি জোকস মনে হয়? 


দাজ্জালের ফেতনা আপনার জোকস মনে হয়? অথচ আপনি বুঝতে পারছেন না৷ আপনি হাসতে হাসতে, চেতনার নামে৷ আধুনিকতার নামে আপনার আল্লাহকে নিয়ে মস্করা করছেন৷ যে আল্লাহ আপনার রিযিকের ভাতের দানার পরিমানও লিখে রাখছে৷ আপনার জীবন সঙ্গী কে হবে লিখে রাখছে৷ আপনার মৃত্যু কবে হবে সেটা লিখে রাখছে৷ আপনার আজকের কর্মের কারণে দশ দিন পর বিপদে পড়বেন, অই বিপদ দেখেও যে আল্লাহ এটা অপেক্ষায় থাকে যে আমার বান্দা একটা ভালো কাজ করুক

 মাইয়্যেতের গোসলের কাজে সাহায্য করে থাকেন এমন একজন বোন, শাইখ মুহাম্মাদ হাসানকে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থার প্রেক্ষিতে ফোন করলো। সে বললো যে, তার সামনে একজন তরুণীর মৃ'তদেহ শোয়ানো আছে এবং তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা। সে চেষ্টা করেও হাতদু'টো আলাদা করতে পারছে না।

.

শাইখ এই বোনকে ঐ তরুণী কিভাবে মা'রা গেছে তা জানতে তার পরিবারে খোঁজ নিতে বললেন। তারা জানালো যে, সে সালাতে দন্ডায়মান অবস্থায় মৃ'ত্যুবরণ করেছে।

.

সুবহানআল্লাহ! গ্রামের একজন সাধারণ তরুণী সালাতে দাঁড়িয়ে কুর'আন পাঠরত অবস্থায় মৃত্যবরণ করেছে।

.

শাইখ ঐ বোনকে তার হাতদু'টো ঐ অবস্থাতেই রেখে দিতে বললেন। তিনি আরো বললেন, তার কাপড় যেন খুবই মার্জিত এবং সতর্কতার সাথে কাটা হয়। তিনি স্বরণ করিয়ে দিলেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তি সেভাবেই পুনরুত্থিত হবে, যে অবস্থায় সে মৃ'ত্যবরণ করেছে। অতএব এই তরুণী সালাতে দন্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর সামনে পুনরুত্থিত হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার মত হওয়ার তওফিক দান করুন।

.

কিছুক্ষণ পর, সে আবার শাইখকে ফোন করে জানালো যে, এবার আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে বললো, ঐ তরুণীর কা'ফ'নের কাপড় অনেকখানি লম্বা পাওয়া যাচ্ছে। এটি একটু অস্বাভাবিক। কারণ কাফন সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মাপে আগেই বানানো অবস্থায় পাওয়া যায়। শাইখ তাকে বললেন, কা'ফন লম্বা বলতে সে কী বুঝাচ্ছে? সে বললো, কা'ফনটি প্রায় দেড় মিটারেরও বেশি লম্বা। যা মোটেই স্বাভাবিক নয়। শাইখ আবার তাকে ঐ তরুণীর পরিবারের কাছে জিজ্ঞেস করতে বললেন যে, সে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন কিছু করতো কিনা।

.

মৃ'তের বোন জানালো, সে প্রায় প্রত্যেক সালাতেই খুব অদ্ভুত এক দু'আ করতো। দু'আটি হলো:

.

ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﺍﻟﻠﻬﻢ

ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﻭ ﺍﺟﻌﻞ ﻛﻔﻨﻲ ﺯﻳﺎﺩﺓ

.

(আল্লাহুম্মাসতারনী,  আল্লাহুম্মাসতারনী ,আল্লাহুম্মাসতারনী ,ওয়াজা আ'ল কাফানী যিয়াদাতান।)

সাধারণ অনুবাদে এর অর্থ দাঁড়ায় : হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। আমার কাফন বৃদ্ধি করে দিন।

.

আল্লাহু আকবার! সাধারণ একজন গ্রাম্য তরুণী কতদূর পর্যন্ত চিন্তা করে ফেলেছে একবার ভেবে দেখুন। আমাদের মধ্যে কতজন আমাদের কাফন নিয়ে চিন্তা করি? এসব বিষয় নিয়ে আদৌ কী কেউ মাথা ঘামায়? কিন্তু এই পূণ্যবতী তরুণী, যে কিনা মৃত্যুর পরও নিজেকে সেভাবেই আবৃত রাখতে চেয়েছিল যেভাবে জীবিত অবস্থা


 


 বৈঠকে বসা ও কথা বলার শিষ্টাচার —


তিনজন সহ কোথাও বসে আলাপ করলে, কখনোই দুজন আলাদা হয়ে ফিসফিসিয়ে কথা বলবেন না। আলাপের তৃতীয় ব্যক্তির জন্য এটা মনোকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি নিঃসঙ্গতা ও শূন্যতা অনুভব করতে পারেন। এ কারণেই নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মন্দ আচরণটি করতে নিষেধ করেছেন।


নবিজী (সা.) বলেন — 

এমন দুই ব্যক্তি যেন কানে কানে কথা না বলে যাদের মধ্যে তৃতীয়জন বিদ্যমান রয়েছে। 

.

রেফারেন্সঃ [আল আদাবুল মুফরাদ, বুখারি, পৃষ্ঠা : ১০০, হাদিস : ১১৬৮]

.

~ ‘মুমিন জীবনের আদব’ বই থেকে নেওয়া!


সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) একদিন সকালে আমাদেরকে বললেনঃ  গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম আমার কাছে দু’জন আগন্তুক আসল। আর আমাকে বলল, চলুন। আমি তাদের সঙ্গে চললাম। তারা আমাকে একটি চুলার কাছে নিয়ে গেলো, যেই চুলার উপরের দিকে সরু এবং নিচের দিকে প্রশস্ত ছিল। যেখান থেকে নর নারীর প্রবল চি'ৎকার ভেসে আসছিল। কিছুক্ষণ পর দেখলাম সেই চুলার উ'ত্তপ্ত শিখার সাথে তারাও উপরে উঠছে আর নিচে নামছে। আমি আগন্তুক  কে বললাম, এদের এমন বি'ভৎস শা'স্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? আগন্তুক  বললো, এরা অ'বৈধ স'ম্পর্ককারী নারী পুরুষ"!

 (সহিহ বুখারি , ৭০৪৭ নং হাদিস এর বিশেষ অংশ)


 ইবরাহিম (আঃ) চলে গেলেন। তিনি অনেক দূরে চলে গেলেন, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে আর দেখা যাচ্ছিল না। তখন কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে একটি দুআ করেন। এই চমৎকার দুআটি আছে কুরআনের সূরা ইবরাহিমে, 

 

“হে আমাদের রব, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে অনুর্বর উপত্যকায় আবাদ করেছি। হে আমাদের রব, যাতে তারা সালাত কায়েম রাখে। আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে রিযিক্ব প্রদান করুন ফল-ফলাদি থেকে, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।” (সূরা ইবরাহিম, ১৪ : ৩৭) 


Maslow’s hierarchy of needs নামে একটি তত্ত্ব আছে যেখানে মানুষের বিভিন্ন চাহিদাকে একটি পিরামিড আকারে দেখানো হয়েছে। এই পিরামিডের সবচেয়ে নিচের স্তরে আছে মানুষের শা-রীর-বৃত্তীয় চাহিদা। অর্থাৎ এই তত্ত্ব অনুসারে শারী-রিক চাহিদা (যেমন খাদ্যগ্রহণ) মানব জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। গুরুত্বের দিক থেকে এর পরে আছে যথাক্রমে সামাজিক চাহিদা (সমাজবদ্ধ হয়ে থাকা), আধ্যাত্মিক চাহিদা (ধ-র্ম-চর্চা) এবং পিরামিডের চূড়ায় আছে আত্মোপলব্ধি; নিজের সম্ভাবনা ও প্রতিভাকে আবিষ্কার করে তা বিকশিত করতে ধাবিত হওয়া (self-actualization)। মাসলোর এই তত্ত্ব অনুযায়ী বলতে হয়, একজন মানুষ প্রথমে তার শা-রীর-বৃত্তীয় চাহিদা পূরণ করতে সচেষ্ট হবে, তারপর দলবদ্ধ হয়ে থাকতে শুরু করবে, এরপর ধ-র্মে-র খোঁজ করবে এবং অবশেষে সে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সৃষ্টিশীলতার সন্ধান করতে শুরু করবে।


কিন্তু ইবরাহিম (আঃ) এর  দুআতে তত্ত্বের এই পিরামিডটিকে সম্পূর্ণ উল্টো রূপে দেখা যায়। তিনি তাঁর পরিবারের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে প্রথমেই যা চেয়েছেন তা হলো–লি ইউক্বীমুস স্বলাহ–যেন তারা সালাত কায়েম করে। অর্থাৎ তিনি প্রথমে অগ্রাধিকার দিয়েছেন আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণের প্রতি। 


এরপর তিনি দুআ করেছেন, ফাজ’আল আফ-ইদাতাম মিনান নাস–আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন। এখানে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য মানুষের অন্তরে ভালোবাসা গড়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে অনুরোধ করেছেন। এটি হলো তাঁর পরিবারের জন্য সামাজিক চাহিদা। সবশেষে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে যা চাইলেন তা হলো রিযক্ব অর্থাৎ তাদের শা-রীর-বৃত্তীয় চাহিদাপূরণ–ওয়ারযুক্বুহুম মিনাস সামারাত–তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুজি দান করুন। 


তবে এখানে এটাও লক্ষণীয়, ইবরাহিম (আঃ) তাঁর দুআর শেষ অংশে শুধুমাত্র রুজির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেননি বরং এর সাথে ইবাদাতের ব্যাপারটিও যুক্ত করে দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, লা আল্লাহুম ইয়াশকুরুন–যেন, তারা শুকরিয়া আদায় করে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। 

.

~ 'সীরাহ : মুহাম্মাদ (সা.)' — বই থেকে!


 পৃথিবীতে মোট ২২৮ টি দেশ নিয়ে পৃথিবী। 

পৃথিবী থেকে সুর্য ১৩ লক্ষ গুন বড়। 

ব্যাটেল জুইস একটা তারা আছে, যা সূর্যের চেয়ে ৩৩ কোটি গুণ বড়। আল্লাহু আকবর। 

প্রক্সিমা সেন্ট্রাই, আলফা সেন্ট্রাই,ব্যাটেল জুইস এরকম ৫০০ বিলিয়ন তারকা নিয়ে গঠিত গ্যালাক্সি। 

আল্লাহ তায়ালা কোটি কোটি গ্যালাক্সি সৃষ্টি করেছেন। 

পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রতগামী যান Apollo 11. 

সেকেন্ডে চলে ১১ কিঃমিঃ বেগে। 

 মিনিটে চলে   ৬৬০ কিঃ মিঃ বেগে 

ঘন্টায় চলে  ৩৯ হাজার কিঃমিঃ বেগে। 

যদি কেউ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের তারকা প্রক্সিমা সেন্ট্রাই Apollo 11 তে  চড়ে যেতে চায়, সময় লাগবে ১ লক্ষ ১৫ হাজার বছর। যাহা কোন ক্রমেই সম্ভব নহে। 

গ্যালাক্সি, সুপার নোভা,ব্লাক হোল এগুলো ১ম আকাশ নয়, 

১ম আকাশের মহাশুন্য। 

তারপর ১ম আকাশ। 

তারপর ২য় আকাশের মহাশুন্য,

তারপর ২য় আকাশ। 

তারপর ৩য় আকাশের মহাশুন্য,

তারপর ৩য় আকাশ। 

তারপর ৪র্থ আকাশের মহাশুন্য,

তারপর ৪র্থ আকাশ।

তারপর ৫ম আকাশের মহাশুন্য,

তারপর ৫ম আকাশ। 

 ৬ষ্ঠ আসমানে একটা গাছ আছে। 

গাছটির নাম সিদরাতুলমুনতাহা। 

বিশ্ব নবী( সাঃ) বলেছেন,তোমার আংটি যদি সাহারা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয়,বিশাল মরুভূমির তুলনায় আংটিটা  যত ছোট, আল্লাহর ২য় আসমানের তুলনায় ১ম আসমান ততো ছোট। আল্লাহু আকবর।              ৭ম আসমানে আছে বিশাল সমুদ্র জগৎ ও আল্লাহর আরশ।

আরশের ভিতর আছে আল্লাহর কুরশি, আল্লাহর সিংহাসন। 

 আল্লাহর সিংহাসন কত বড়?

 আল্লাহর  সিংহাসনের উপর যদি সাত আসমান, সাত জমিন রাখা হয়, বিশাল মরুভূমিতে আংটি ফেলে দিলে যেমন হারিয়ে যাবে, সাত আসমান, সাত জমিনও তদ্রূপ হারিয়ে যাবে। 

আল্লাহু আকবর। 

মালিক তোমার সৃষ্টি সম্পর্কে জানা ও বোঝার তাওফিক নসিব করো।


 যখন মানুষ দুনিয়া থেকে পরপারের পথে যাত্রা করবে, দুনিয়া অতীত হয়ে যাবে এবং সে আখিরাতের মুখোমুখি হবে; তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি তাকে সামান্য সুযোগ দেয়া হতো! তাহলে দুনিয়ায় যে সময়গুলো সে নষ্ট করেছে, সেগুলো সে পরিশুদ্ধ করে নিত এবং যেগুলো সে ছেড়ে এসেছে সেগুলো সে অর্জন করে নিত। কিন্তু না! তা কখনোই সম্ভব নয়। সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন উত্তরের পালা। অচেতনতার সময় শেষ, সচেতন হওয়ার সময় শুরু। তাই মানুষ যদি এই বিষয়গুলো চিন্তা করে, তাহলে তার দীর্ঘ আশাগুলো সংকুচিত হয়ে আসবে, সময়ের প্রতি যত্নবান হবে। তাই কবি বলেন, 


‘অবসর সময়ে নফল স্বলাতের প্রতি গুরুত্ব দাও, হতে পারে সহসা তোমার মুত্যু উপস্থিত হবে। 

কত সুস্থ লোককে দেখেছি, কোনো রোগব্যাধি ছাড়াই তার ‍প্রিয় আত্মা বের হয়ে গেছে।’ 


হে ভাই, তোমার একটি দিনের একটি মুহূর্ত চলে যাওয়ার মানে হলো, তোমার জন্য নির্ধারিত আয়ুর একটি অংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে। কবি বলেন: 


‘যেদিন তুমি দোলনায় ছিলে, সেদিন থেকেই আমি তোমাকে অপূর্ণতায় দেখছি,

তখন থেকেই তোমার একেকেটি মুহূর্ত তোমাকে কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’ 


হ্যাঁ! বাস্তবতা এমনই। আমাদের একেকটি বিশাল নিশ্বাস আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা জানিও না, সেই মৃত্যু কখন সংঘটিত হবে! সুতরাং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কাজ কি এই নয় যে, হঠাৎ করে মৃত্যু গ্রাস করার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা? 

.

“সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন?” বই থেকে..


 ঈমানদার হতে চেষ্টা করুন, রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে ভালোবাসুন, তার আদর্শ জীবনে ধারন করুন, অন্য কোনো আদর্শ নয়। সত্যের পথে চলুন । সত্যি কথা বলুন।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন।

মহান আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।

 রাসূল (ﷺ) এর অন্তিম মুহূর্তে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁর ওসিয়ত এই ছিল যে, নামাজ পড়বে এবং তোমাদের দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে।


(ইবনে মাজাহ: ২৬৯৭)


 'রিক্সাওয়ালা জানালেন আজ পাঁচ কেজি চাল, দু’কেজি ডালের একটা ত্রাণ প্যাক পেয়েছিলেন, তিনি তা নেন নি।

কেনো নেন নি?

শোনেন ঘরে আমার এখনো দশ কেজি আছে, বাপ-বেটির আরো দশ দিন যাবে। আমি যদি নেই তো যার ঘরে নাই তার কী হবে!


এমন বিবেকবান রিক্সাওয়ালা!

হ্যাঁ!

তার কারণ তিনি স্ব-শিক্ষিত! তার একমাত্র কন্যা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছে। মেয়ের বয়স যখন ৬/৭ তখন তার স্ত্রী মারা যায়। মেয়েকে বুকে আগলে রেখে মায়ের স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন। মেয়ের অমর্যাদা হবে ভেবে উত্তরা থেকে এসে তেজগাঁও-মগবাজার এলাকায় রিক্সা চালান। এখনো নিজে রান্না করে মেয়েকে খাইয়ে কাজের জন্য চলে আসেন।


এমন বাবার প্রতি শ্রদ্ধা তো রাখাই যায়!

কাজ ছোট হলেই মানুষ ছোট হয় না!!


#Respect 🫡


Copy post from Helal Uddin Parvez


 জীবনের শেষ বেলায় এসে মনে হবে,


এক হাত জমির জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া ছিল ভুল।

রাত জেগে মিথ্যা স্বপ্ন বুনে কারো সঙ্গে চ্যাট করাটা ভুল ছিল।

কাউকে কষ্ট দিয়ে কঠিন কথা বলাটা ভুল ছিল।

দুর্বল কাউকে ভয় দেখিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখানোও ভুল ছিল।


শেষ বেলায় মনে হবে,


ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র না হলেও জীবনে খুব বড় ক্ষতি হয়নি।

অনেক টাকা রোজগার করতে না পারলেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

জীবনের শেষ সময়ে এসে, কষ্ট ছাড়া একটু স্বাভাবিক মৃত্যুই হবে শেষ চাওয়া।


শেষ বেলায় মনে হবে,


মানুষের দোয়াটাই ছিল সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, যেটা আমি অর্জন করতে পারিনি।

মানুষের মনে কষ্ট দেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।

শ্বাসকষ্টের মাঝে আটকে থাকা নিঃশ্বাসের কষ্টে শুধু মানুষের দোয়াটাই মনে হবে সবচেয়ে মূল্যবান।


অথচ এত কিছু ভেবে ও আমরা যৌবনকালে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও

 স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর...