স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও

 স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও


প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর) তার জন্য মাহরাম থাকবে নাকি তিনি নন মাহরাম বলে গণ্য হবেন?

উত্তর:

স্বামীর পিতা (শ্বশুর) চিরকালের জন্য মাহরাম পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত যদিও তার স্বামীর সাথে তালাক সংঘটিত হয়ে গিয়ে থাকে অথবা স্বামী মৃত্যু বরণ করে থাকেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, 

وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ 

"(এবং তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত সন্তানদের স্ত্রীগণকে।" [সূরা নিসা: ২৩]


◍  শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,


: لا حرج عليك في الكشف لوالد زوجك السابق؛ لأنه محرم لك ولو طلقك ابنه، وزيارته في الأوقات المناسبة مع زوجك أو محرمك مناسبة، إذا كان من أهل الصلاح والخير، وهكذا لو زرته لوحدك إذا كان منزله قريبًا لا يحتاج إلى سفر ولا كلفة، بشرط أن يرضى زوجك بذلك

وفق الله الجميع لما يرضي

“আপনার প্রাক্তন স্বামীর পিতার সামনে মুখমণ্ডল খোলা বা বেপর্দা হওয়ায় কোনও অসুবিধা নেই। কারণ তিনি আপনার মাহরাম (তার সাথে চিরকালের জন্য বিয়ে হারাম) যদিও তার ছেলে আপনাকে তালাক দিয়েছে। অত:এব আপনার জন্য আপনার (নতুন) স্বামীর সাথে বা কোনও মাহরামের সাথে গিয়ে উপযুক্ত সময়ে তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা বৈধ-যদি সে নেককার ও সৎ হয়।

একাকীও তার বাড়িতে দেখা-সাক্ষাত করতে পারেন-যদি তার বাড়ি কাছাকাছি হয় এবং সেখানে যেতে সফর বা কষ্ট করতে না হয়। তবে শর্ত হল, এতে আপনার স্বামীর সম্মতি থাকতে হবে। আল্লাহ সকলকে ঐ কাজ করার তওফিক দান করুন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হোন।”

[মাজমু ফাতাওয়া ও মাকালাত শাইখ বিন বায (শাইখ বিন বায রাহ.-এর ফতোয়া ও প্রবন্ধ সমগ্র) ২১/২২। ফতোয়া প্রদানের তারিখ: ২৩/২/১৪১৮ হিজরি]


উল্লেখ্য যে, 

 ◆ স্বামীর সাথে কেবল আকদ সংঘটিত হলেই তার পিতা (মহিলার শ্বশুর) চিরকালের জন্য হারাম হয়ে যাবে-চাই দাম্পত্য জীবন শুরু হোক অথবা না হোক। অর্থাৎ যদি কোনও কারণে বিয়ের ইজাব-কবুল হওয়ার পরপরই এবং দাম্পত্য জীবন শুরু করার পূর্বে তাদের মাঝে তালাক সংঘটিত হয়ে যায় তারপরও উক্ত মহিলার জন্য তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর) চিরতরে হারাম বলে গণ্য হবে। সুতরাং তাদের মাঝে স্থায়ীভাবে বিয়ে বন্ধন হারাম।


 ◆ অনুরূপভাবে স্ত্রীর সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে বা স্ত্রী মৃত্যু বরণ করলেও তার মা (শাশুড়ি) এবং তার দাদি-নানিগণ (দাদি শাশুড়ি ও নানি শাশুড়িগণ) উক্ত পুরুষ ব্যক্তির জন্য মাহরাম বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ তাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ এবং তাদের সামনে কোনও পর্দা নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা যে সকল মহিলাদেরকে পুরুষদের জন্য বিয়ে করা হারাম করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হল, স্ত্রীর মা এবং দাদি-নানিগণ। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ

“(আরও হারাম করা হয়েছে), তোমাদের স্ত্রীদের মাগণ (তথা জন্মদাত্রী মা এবং দাদি-নানিগণ)কে।” [সূরা নিসা: ২৩]

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল



 রাতের ফযিলতপূর্ন কিছু আমল

________________________________

১. ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে

নেয়া । -(বুখারীঃ ৬৩২০)


২. ঘরের দরজা আল্লাহর নামে বন্ধ

করা । -(বুখারীঃ ৫৬২৩)


৩. শয়নের সময় দু'আ পাঠ করা (যেমনঃ

'আল্লাহুম্মা বিসমিকা আ'মুতু ওয়া

আহইয়া') । -(বুখারীঃ ৬৩১৪)


৪. ডান কাৎ হয়ে শোয়া । -

(বুখারীঃ৬৩১৫)


৫. নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে হলে

শরীরের নাপাক স্থান ধুয়ে অযু করে

নেয়া । -(বুখারীঃ ২৮৮)


৬. সাধারণত সতর খুলা অবস্হায় না

শোয়া । -(তিরমিযীঃ ২৭৬৯)


৭. বিনা কারণে উপুড় হয়ে না শোয়া

। -(তিরমিযীঃ ২৭৬৮)


৮. ঘুমানোর সময় আগুনের বাতি

জ্বালিয়ে না রাখা । 

-(তিরমিযীঃ১৮১৩)


৯. দুঃস্বপ্ন দেখলে পার্শ্ব পরিবর্তন

করে শোয়া । -(মুসলিমঃ ৫৯০১)


১০. দুঃস্বপ্ন দেখলে প্রথমে বাম

দিকে তিনবার থুথু ছিটা এবং

"দুঃস্বপ্ন ও শয়তান থেকে -

হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট আশ্রয়

চাই" এভাবে তিনবার বলা । দুঃস্বপ্ন

কাউকে না বলা । -(মুসলিমঃ ৫৯০২)


          (১১) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেছেন, 

যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, একজন ফেরেস্তা তার পাশে থেকে সারা রাত তাকে  পাহারা দিবে, এবং শয়তান সারা রাত তার নিকটে যেতে পারবেনা না।


__________(বুখারি-২৩১১)।


         (১২) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, 

যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত (আ-মানার রাসূলু–) তেলাওয়াত করবে এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে ।


__________(বুখারি- ৪০০৮)।


         (১৩) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেছেন, 

রাতে (কুল ইয়া আইয়্যু হাল কা-ফিরুন) (অর্থাৎ সূরা কা-ফিরুন) পাঠ করা শির্ক থেকে মুক্তি পেতে 

উপকারী হবে। 


__________(সহীহ তারগীব-৬০২)।


         (১৪) একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার সাহাবাদের বললেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে সমর্থ হবে? এতে সকলের কাছে বিষয়টি ভারী মনে হলো। বলল, একাজ আমাদের মধ্যে কে পারবে, হে আল্লাহর রাসূল?! তিনি বললেন, সূরা ইখলাস হল এক তৃতীয়াংশ কুরআন।


__________(বুখারী- ৫০১৫)


         (১৫) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘য়া টি বলতেন।


ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺑِﺎﺳْﻤِﻚَ ﺃَﻣُﻮﺕُ ﻭَﺃَﺣْﻴَﺎ


(আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া)।


❛হে আল্লাহ্! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো❜। 


__________(বুখারি- ৬৩২৪)।


           (১৬) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) হযরত আলী এবং ফতেমা (রাঃ)- কে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা (৩৩) বার সুবহানাল্লাহ, (৩৩) বার আলহামদুলিল্লাহ্, এবং (৩৪) বার আল্লাহু আকবার বলবে, তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে। 


__________(বুখারী- ৩৭০৫)।


            (১৭) প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেন, 

যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সূরা মূলক) পাঠ করবে এর মাধ্যমে মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। 


__________( এছাড়াও তিরমিজি-২৮৯০)।


      ➤ আল্লাহ্ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুক,, ❤

  🌸  আমিন। 🌼

"

 “যে নিয়মিত কুরআন পড়ে, তাকে বুদ্ধিমত্তার নেয়ামত দেওয়া হবে; যদিও তার বয়স ২০০ বছর হয়।”

.

— মুহাম্মাদ ইবনু কাব রাহিমাহুল্লাহ

সূত্র: আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/২৭০


 

 "তুমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছো?

সেটা কাউকে বুঝতে দিও না, কারণ লোকে ভেঙে যাওয়া বাড়ির ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।"


ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﺷْﻜُﻮ ﺑَﺜِّﻲ ﻭَﺣُﺰْﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ


"আমি তো আমার দুঃ'খ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি!"


~(সূরা ইউসুফ, আয়াত ৮৬)।


বিপদে-মুসিবতে যখন কেউ মানুষের সাথে কিছু শেয়ার না করে শুধু আল্লাহর কাছেই চোখের পানি ফেলে, তখন আল্লাহ্ ভীষণ খুশি হন!!


সবচেয়ে বড় স্বস্তি এটাই যে, "আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে দুঃ'খ ক'ষ্টে ফেলেন!"


~(বুখারি, হাদিস নং: ৫৬৪৫)।


 একদিন ঠিকই আফসোস করবো!

১: ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম জেনেও আমি ফজরে ঘুমিয়ে ছিলাম।

২: কুরআন তিলাওয়াতে অন্তরে প্রশান্তি আসে, তারপরও আমি কুরআন ত্যাগ করেছিলাম।

৩. আল্লাহর যিকির আমার সারাদিনের কাজেকর্মে বরকত আনে জেনেও, অলসতা করে যিকির ছেড়েছি।

৪. ইস্তেগফারে আমার রিযিক বৃদ্ধি জেনেও, গাফেল থেকেছি।

৫. তাহাজ্জুদ আমার জন্য শান্তি, শৃঙ্খলা, সুস্থিরতাসহ আরো অসংখ্য উপকারিতা নিয়ে আসে জেনেও, আমি এমন মহার্ঘ তাহাজ্জুদও আমি হেলাভরে ছেড়ে দিয়ে ঘুমিয়েছি।

৬. তাওবার দরজা সদা-সর্বদা উন্মুক্ত, আমি আজ করছি, কাল করছি করে শুধু পিছিয়েছি।

৭. গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গুনাহ ত্যাগ করলে, আল্লাহ আমার বিপদ দুর করে দিতেন। আমার দুশ্চিন্তা লাঘব করতেন। এটা জেনেও আমি গুনাহে অনঢ় থেকেছি। গুনাহে লিপ্ত থেকেছি।

৮. যে কোনো ভালো কাজ করলেই আমি জান্নাতের আরেকটু কাছে চলে যেতাম। জাহান্নাম থেকে দূরে সরে আসতাম। এটা জেনেও আমি উদাসীন থেকেছি। 

একদিন ঠিকই আফসোস করবো।
ইয়া আল্লাহ সুমতি দান করুন। আমীন।

- শায়খ আতীক উল্লাহ

Follow Ya Ummati 
Join Ya Ummati 

#yaummati024

 [সৌদি রাষ্ট্র কর্তৃক নর্তকীদের দ্বারা কাবার অবমাননা]

---লিখেছেন: শায়েখ أحمد الدمنهوري حفظه الله 


জাতির ধ্বংস সাধন শুরু হয় নৈতিক পতনের মাধ্যমে। আত্মমর্যাদাহীনতা, নিজেকে দুর্বল ও পরাধীন মনে করা, স্বাধীনতা ও প্রতিযোগিতার আকাঙ্ক্ষার অভাব, এবং সেই সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ থাকা যা অন্যরা নির্ধারণ করেছে—এসবই জাতির পতনের সূচনা চিহ্ন।


নৈতিক অপমান মানে ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া। বিজয়ী কখনো শত্রুর ইচ্ছাশক্তি ভেঙে না দিয়ে জয়লাভ করতে পারে না। তবে কি এখন আমরা যে জাতিগত নৈতিক পতন দেখছি, তা কি শারীরিক ধ্বংসের পূর্বাভাস? জাতি কি নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শারীরিকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে?


রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম জাতির ধ্বংস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:

"أوَّلَ النَّاسِ هلاكًا فارسُ ، ثم العَرَبُ ، إلَّا بقايا هاهنا يعني : الشَّامَ"!

"সবচেয়ে আগে ধ্বংস হবে পারস্য, তারপর আরব, তবে কিছু অংশ টিকে থাকবে—তারা শামের লোক।" 


(আল ফিতান লি নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ:৫৬, আহমাদ: ১০৬৫৫, ২৪৪৫৭, বাজ্জার: ৯৬৫২, ৯৬৬২। বাজ্জার আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনার‌ (৯৬৬২) রাবীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন)


তিনি আরও বলেছেন,

(ولن يَستَحِلَّ البيتَ إلَّا أهلُه، فإذا اسْتَحَلُّوه ؛ فلا تَسأَلْ عن هَلَكةِ العَرَبِ)

"কাবা ঘরের প্রতি অবমাননা করবে শুধু তার লোকেরা। আর যখন তারা তা করবে, তখন আরবের ধ্বংস সম্পর্কে প্রশ্ন করো না।" (আহমাদ:৭৯১০, ৮১১৪, ৮৩৫১, ৮৬১৯, সনদ সহীহ)


এখানে বোঝা যায়, কিছু ঘটনা সংঘটিত হবে যার মাধ্যমে জাতির একাংশ ধ্বংস হবে, তারপর আরেক অংশ। আরবদের ধ্বংসের দুটি চিহ্ন দেওয়া হয়েছে:

১. পারসিদের ধ্বংস।

২. কাবাঘরের পবিত্রতার লঙ্ঘন।


এই উভয় ঘটনাই অনেক দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। পারমাণবিক প্রকল্পসহ ইরানের বিরুদ্ধে কাজ চলছে, আর কাবাঘরের চারপাশে তার মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।


রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের রোগ নির্ণয় করে তা থেকে বাঁচার চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

"যখন তোমরা সুদের মাধ্যমে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ ধরে কৃষিকাজে মত্ত হবে, এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান চাপিয়ে দেবেন যা তিনি সরাবেন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজের ধর্মে ফিরে আসো।"


এখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। "গরুর লেজ অনুসরণ করা এবং কৃষিকাজে সন্তুষ্ট থাকা" বলতে বোঝানো হয়েছে এমন জীবনধারা, যেখানে মানুষ দুনিয়ার আরাম-আয়েশে নিমগ্ন থাকে। আজকের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অবস্থাও এমন, যেখানে তারা মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত সম্পদে সন্তুষ্ট এবং তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।


এর মূল রোগ হলো—দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং তার স্থায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা।

আর চিকিৎসা হলো—জিহাদ। জিহাদ মানে এখানে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প গ্রহণ করা যার মাধ্যমে জাতি প্রতিযোগিতার ময়দানে টিকে থাকতে পারে। যখন সেই প্রকল্প প্রতিযোগিতার পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা সামরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করার প্রয়োজন হবে, যেমনটি অন্যান্য জাতিগুলো করে।


আজকের মুসলিম জাতির সমস্যা হলো তাদের কোনো আন্তর্জাতিক প্রকল্প নেই, তাদের নেতারা দিশাহীন। তাই যুবসমাজ বিভ্রান্ত, কেউ হতাশায় ভুগছে, কেউবা শারীরিক ভোগ-বিলাসে মত্ত। আর কিছু নেতা এমন আচরণ করছেন, যেন তারা টিকে থাকার জন্য শুধু জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করাই যথেষ্ট মনে করছেন। এটি একেবারে "মুলূকুত তাওয়াইফ" (ছোট ছোট স্বার্থান্ধ রাজ্যসমূহের যুগ)-এর শেষ সময়ের মতো।


যদি জাতির একটি সমষ্টিগত লক্ষ্য থাকত, তাহলে যুবসমাজের শক্তি তুচ্ছ বিষয়ের পেছনে নষ্ট না হয়ে সেই লক্ষ্যে ব্যবহৃত হত। জাতি তখন এই হতাশা থেকে বের হয়ে এসে বিশ্বব্যাপী নীতির পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত।


যে জাতির নিজস্ব প্রকল্প নেই, সে অন্যদের প্রকল্পের অংশ হয়ে থাকবে। এটাই বাস্তবতা, এবং তা আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট।


আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।


©

স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও

 স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর...