কেয়ামতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যাক্তি,যারা সুখে দুঃথে আল্লাহর প্রশংসা করেন🌺
আলহামদুলিল্লাহ
📖~[মিশকাতুল-২৩০৮]
কেয়ামতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যাক্তি,যারা সুখে দুঃথে আল্লাহর প্রশংসা করেন🌺
আলহামদুলিল্লাহ
📖~[মিশকাতুল-২৩০৮]
গুনাহ মানুষের অন্তরে মরিচা ফেলে। ফলে মানুষের অন্তর পাপপ্রবণ হয়ে ওঠে। ইবাদতে অনিহা সৃষ্টি হয়। ভালো কাজে অবহেলা বাড়ে, মন্দ কাজে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
তাই অন্তরে যাতে মরিচা না পড়ে কিংবা পড়লেও তা যাতে দ্রুত পরিষ্কার করা যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অন্তরের মরিচা দূর করার পদ্ধতিও নবীজি (সা.) শিখিয়ে দিয়েছেন। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা : ইস্তেগফার অন্তরের মরিচা দূর করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। তাই মুমিনের উচিত, অন্তরের পরিচ্ছন্নতার জন্য বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-ও এই আমল করতেন। ইরশাদ হয়েছে, আগার আল-মুজানি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কখনো কখনো আমার অন্তরের ওপরও মরিচা পড়ে। তাই আমি দৈনিক একশ বার ক্ষমা চাই। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৫)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে।
অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওবা করে, তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়। এটাই সেই মরিচা, আল্লাহ তাআলা যার বর্ণনা করেছেন, ‘কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের মনে জং (মরিচা) ধরিয়েছে।’ (সুরা মুত্বাফফিফীন : ১৪)।
মৃত্যুর স্মরণ ও কোরআন তিলাওয়াত : এ দুটি আমলও অন্তরের মরিচা পরিষ্কার করে।
কোন মুসলিমের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। কেউ তা করলে সে মৃত্যুর পর জাহান্নামে প্রবেশ করবে!
(আবূ দাউদ ৪৯১৪ স’হীহুল জা’মি’, হাদীস ৭৬৩৫)
মৃত্যু কি শেষ, মৃত্যু আসলে কি
জীবনের চিরসত্যের নাম মৃত্যু। চাইলেও মরতে হবে, না চাইলেও মৃত্যু আসবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে।
[সূরা আল আম্বিয়া আয়াত ৩৫]
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
[সূরা আল আনকাবূত আয়াত ৫৭]
জন্ম লাভ করেছি মানে মৃত্যু একদিন আসবেই। এই পৃথিবীতে কোনো প্রাণীই অমরত্ব লাভ করতে পারেনি।
মহান আল্লাহ বলেন,
আর (হে নবী) তোমার পূর্বে কোন মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে থাকবে ?
[সূরা আল আম্বিয়া আয়াত ৩৪]
মৃত্যু কি? মরে যাওয়া মানে কী শেষ হয়ে যাওয়া, নাকি নতুন কোনো কিছুর সূচনা? মরে যাওয়া মানে কি হারিয়ে যাওয়া, নাকি বেঁচে যাওয়া? প্রকৃত জীবনের সূচনা ঘটা?
মৃত্যু মানে ইহলৌকিক জীবনের ইতি টেনে পারলৌকিক জীবনে প্রবেশ করা। রুহ বা আত্মার জগতে স্থানান্তর। ক্ষণস্থায়ী জীবন থেকে চিরস্থায়ী জীবনে যাত্রা। মৃত্যু মানে জীবনের রূপান্তর। মৃত্যু হওয়া মানে হারিয়ে যাওয়া কিংবা শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বেঁচে যাওয়া কিংবা চিরস্থায়ী জীবনে প্রবেশ করা।
মরতে যখন হবেই, তাহলে জন্ম কেন হলো? এই জীবনে কেন এলাম আমরা? ভিন্ন একটি জগতে কেনই বা আবার যেতে হবে আমাদের? একটি জগতের জন্যই মূলত এতগুলো জগতের সৃষ্টি। জন্ম লাভ করা, আবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া। যাত্রাটা অনেকটা এমন।
প্রতিটি মানুষের প্রকৃত গন্তব্য আখিরাত।
পরকালীন জীবনে আপনি কেমন থাকবেন না থাকবেন, তার প্রস্তুতিস্থল এই পৃথিবী। পৃথিবী একটি যাত্রাপথ। যেন সামান্যক্ষণের বাসযাত্রা বা উড়োজাহাজ ভ্রমণ। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য পুনরুত্থিত হওয়া, ওপারের জীবনে সফল হতে পারা। পুনরুত্থিত হতেই হবে। এটাই চিরসত্য।
মহান আল্লাহ বলেন,
তিনিই তোমাদের জীবন দিয়েছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু দেবেন, তারপর তিনিই তোমাদেরকে আবার জীবন দেবেন। নিশ্চয় মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।
[সূরা আল হজ্জ আয়াত ৬৬]
পৃথিবী হলো দারুল আমল, আমাদের কর্মক্ষেত্র। আখিরাত হলো দারুল জাজা, সেটি প্রতিদানের জগৎ। এই দুটির মাঝখানে মৃত্যু হলো ‘দারুল আমল’ থেকে ‘দারুল জাজা’য় যাওয়ার দরজা। কর্মের জগতে রয়েছে কর্ম; রয়েছে অকর্মের অবকাশ। কর্মজগতের কর্ম আর অকর্মের ভিত্তিতে সজ্জিত হবে প্রতিদানের জগৎ। সেখানে থাকবে শুধু প্রতিদান। থাকবে না কোনো কর্ম বা অকর্মের অবকাশ।
মহান আল্লাহ বলেন,
প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ‘অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী।
[সূরা আল ইমরান আয়াত ১৮৫]
গোটা মানবজীবনটাই একটি পরীক্ষাকেন্দ্র। সীমিত প্রশ্ন। সুনির্দিষ্ট উত্তর। পরীক্ষা শেষে অপেক্ষমাণ চূড়ান্ত সফলতার হাতছানি অথবা শাস্তি।
মহান আল্লাহ বলেন,
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।
[সূরা আল মুলক আয়াত ২]
সুতরাং প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে পরীক্ষার হলের সময়টুকুকে যথার্থ মূল্যায়ন করে এবং সঠিক উত্তর প্রদানের মাধ্যমে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনে সচেষ্ট হয়।
পরীক্ষাকেন্দ্রে বা পরীক্ষার হলে কি কেউ সব সময় থেকে যায়? সেখানে কি থেকে যাওয়া যায়? যায় না। পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে মনে হয়, বেঁচে গেলাম। এ জন্যই ইহজগৎকে কারাগারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফিরের জন্য জান্নাত।’ এর মানে কারাগারে যেমন মানুষ সব সময় থাকে না, থাকতে চায় না; দুনিয়াও মুমিনের সব সময় থাকার স্থান নয়। দুনিয়া হলো কেবলই আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং প্রকৃত জীবনের পাথেয় তৈরিতে ব্যস্ত থাকা।
মহান আল্লাহ বলেন,
পাথেয় গ্রহণ কর। নিশ্চয় উত্তম পাথেয় তাকওয়া। আর হে বিবেক সম্পন্নগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর।
[সূরা আল বাক্বারাহ আয়াত ১৯৭]
মূসা (আঃ)-এর মৃত্যু যন্ত্রণা উপস্থিত হইলে আল্লাহ্ পাক জিজ্ঞাসা করেন, হে মূসা! তুমি মৃত্যু যন্ত্রণা কিরূপ অনুভব করিতেছ? তিনি বলেন,
ইয়া এলাহী যেমন জীবিত পাখিকে চামড়া খসাইয়া পাও বান্ধিয়া তপ্ত কড়াইয়ের মধ্যে আগুনে ভাজা হইতেছে। অন্য রেওয়ায়াতে আছে যেমন জীবিত একটা বকরীর চামড়া খুলিয়া ফেলা হইতেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মৃত্যুর সময় শরীরের এমন কোন একটা শিরা বা স্নায়ু নাই যা পৃথকভাবে যন্ত্রণা অনুভব করিবে না। তিনি আরো বলেন, হঠাৎ মৃত্যু মুসলমানের জন্য আরাম, কাফেরদের জন্য পরিতাপ।
এক সাহাবী (রাঃ) বলেন, অনেক মুসলমানের মৃত্যু যন্ত্রণা অতি কঠিন হয়। সেই যন্ত্রণা ভোগের ফলে তার অনেক পাপ মাফ করা হয়। আর অনেক কাফেরেরা দুনিয়াতে দান খয়রাত ও পরের উপকার করে থাকে। উহার বিনিময়ে তাদের মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে থাকে। আল্লাহ্ পাকের নিকট তাদের আর কোন হক থাকে না।
আল্লাহ বলেন- كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ) কুল্লু নাফছিন যায়িকাতুল মাওত) অর্থাৎ, প্রত্যেক প্রাণীরই মৃত্যুর কষ্ট ভোগ করিতে হইবে।
(মউতু কাছিন, কুলু নাছিন শারিবু * কাবরু বাইতিন কুলুনাছিন দাখিলু)
অর্থাৎ, সকল মানুষেরই মরিতে হইবে এবং অন্ধকার কবরে মাটির বিছানা ও মাটির সিথানের মধ্যে সকলেই শুইতে হইবে।
ইরাকের বিখ্যাত আলেম মালেক বিন দিনার।
একবার এক বিশাল মাহফিলে বক্তব্য দিতে দাড়াতেই
এক শ্রোতা বলে উঠলেন, আপনার বক্তব্য শুরু করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। মালেক বিন দিনার প্রশ্ন করার অনুমতি দিলেন। বয়স্ক শ্রোতা বললেন, আজ থেকে দশ বছর আগে আপনাকে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি, আপনি সে অবস্থা থেকে কিভাবে ফিরে এলেন? এবং ওয়াজ করার জন্য এখানে এলেন?
মালেক বিন দিনার কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন। তারপর বললেন- ঠিক বলেছেন, আমিই সেই ব্যক্তি। শুনুন তাহলে আমার কাহিনী: এক কদরের রাতে মদের দোকান বন্ধ ছিল দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে এক বোতল মদ কিনলাম বাসায় গিয়ে খাবো এই শর্তে। বাসায় ঢুকলাম।ঢুকেই দেখি আমার স্ত্রী নামাজ পড়ছে। আমি আমার ঘরে চলে গেলাম এবং বোতলটা টেবিলে রাখলাম।
আমার তিন বছরের শিশু মেয়েটা দৌড়ে এলো, টেবিলের সাথে ধাক্কা খেয়ে মদের বোতল মাটিতে পরে ভেঙ্গে গেল। অবুজ মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে লাগল। ভাঙ্গা বোতল ফেলে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সে রাতে আর মদ খাওয়া হলোনা আমার। পরের বছর আবার লাইলাতুল কদর এলো। আমি আবার মদ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বোতলটা টেবিলে রাখলাম। হঠাৎ বোতলটার দিকে তাকাতেই কান্নায় বুক ফেটে গেল। তিন মাস হলো আমার শিশু কন্যাটি মারা গেল। বোতলটা বাইরে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। স্বপ্নে দেখছি এক বিরাট সাপ আমায় তাড়া করছে। এতো বড় সাপ আমি জীবনেও দেখিনি। আমি ভয়ে দৌড়াচ্ছি। এমন সময় এক দুর্বল বৃদ্ধকে দেখলাম। বৃদ্ধ আমাকে বলল, আমি খুব দূর্বল এবং ক্ষুধার্ত। এই সাপের সাথে আমি পারবনা। তুমি এই পাহাড়ের ডানে উঠে যাও। পাহাড়ে গিয়ে দেখি দাউদাউ আগুন জ্বলছে।আর পিছনে এগিয়ে আসছে সেই সাপ। বৃদ্ধের কথা মতো ডানে ছুটলাম। দেখলাম সুন্দর একটা বাগান। বাচ্চারা খেলছে। গেইটে দারোয়ান।
দারোয়ান বলল: বাচ্চারা দেখতো এই লোকটিকে? একে সাপটা খেয়ে ফেলবে নয়তো আগুনে ফেলে দিবে। দারোয়ানের কথায় বাচ্চারা ছুটে এলো। তার মাঝে আমার মেয়েটাও আছে।
মেয়েটা আমার ডান হাত জড়িয়ে ধরে বাম হাতে থাপ্পর দিয়ে সাপটিকে দূরে ফেলে দিলো। অমনেই সাপ চলে গেল। আমি অবাক হয়ে বললাম: মা তুমি এতো ছোট! আর এতো বড় সাপ তোমায় ভয় পায়?
মেয়ে বলল: আমি জান্নাতি মেয়ে। জাহান্নামের সাপ আমায় ভয় পায়। বাবা! ঐ সাপকে তুমি চিনতে পেরেছো?
আমি বললাম: না মা। আমার মেয়ে বলল: বাবা! এতো তোমার নফস। নফসকে তুমি এতো বেশি খাবার দিয়েছ যে সে আজ এতো বড় এতো শক্তিশালী হয়েছে।
এমন সময় পাখিটি বলে ওঠে— ‘রুমী তুমি তোমার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছো; অথচ তোমার এই আমিষের আকুতি শেষ হয়না। তুমি যদি আমাকে মুক্ত করে দাও; আমি তোমাকে তিনটি পরামর্শ দেবো; যা তোমার জীবনকে সন্তোষ আর শান্তিতে ভরে দেবে।’
রুমি কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন— “আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও; যদি পছন্দ না হয়; সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করবো তোমাকে।”
পাখিটি রাজি হয়ে বলল— ‘তুমি সব সময় তোমার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়ো। এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দাও। তাতে তোমার জীবন শ্রেয়তর হবে।’
রুমি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন; পাখিটার কথায় বোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বলেন।
পাখি বলে— ‘তুমি আমায় ছেড়ে দিলে ওই গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।’
রুমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছেড়ে দেন; আর পাখি গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসে।
পাখিটা এবার তার দ্বিতীয় পরামর্শের কথা বলে— ‘রুমী অতীতকে কখনো পালটানো যায় না। সুতরাং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করো। আর ভবিষ্যতের জন্য বাঁচো। যা হোক বড় বোকামি করেছো তুমি। আমার পেটের মধ্যে তিন কেজি হীরা আছে। তুমি এটা পেলে তোমার তিনপুরুষ বসে খেতে পারতে।’
সাংঘাতিক ঘাবড়ে গিয়ে রুমি তিতিরের পেছনে রেগে ছুটতে থাকেন; তাকে আবার ধরতে। পাখি তখন জোরে জোরে বলে— ‘রুমি তুমি দেখছি আমার পরামর্শ একেবারেই শুনলে না। আমার নিজেরই ওজন যেখানে দুই কেজির বেশি নয়; আমার পেটে কী করে তিন কেজি হীরা থাকবে! তুমি দেখছি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছো! দ্বিতীয়ত আমি এরিমাঝে তোমাকে ছেড়ে গেছি; তোমার জীবনে এখন আমি অতীতের বিষয়।’
পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে রুমি তখন তৃতীয় পরামর্শের জন্য অনুরোধ করেন।
তিতির পাখিটি বলে— ‘রুমি শোনো; সবাইকে উপদেশ দিতে যেওনা। শুধু তাদের উপদেশ দাও; যারা সেটা শুনবে-মনে রাখবে। মনে রেখো কিছু কাপড় এতো জীর্ণ হয়ে যায়; যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।’
Collected
স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর...