মাইয়্যেতের গোসলের কাজে সাহায্য করে থাকেন এমন একজন বোন, শাইখ মুহাম্মাদ হাসানকে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থার প্রেক্ষিতে ফোন করলো। সে বললো যে, তার সামনে একজন তরুণীর মৃ'তদেহ শোয়ানো আছে এবং তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা। সে চেষ্টা করেও হাতদু'টো আলাদা করতে পারছে না।
.
শাইখ এই বোনকে ঐ তরুণী কিভাবে মা'রা গেছে তা জানতে তার পরিবারে খোঁজ নিতে বললেন। তারা জানালো যে, সে সালাতে দন্ডায়মান অবস্থায় মৃ'ত্যুবরণ করেছে।
.
সুবহানআল্লাহ! গ্রামের একজন সাধারণ তরুণী সালাতে দাঁড়িয়ে কুর'আন পাঠরত অবস্থায় মৃত্যবরণ করেছে।
.
শাইখ ঐ বোনকে তার হাতদু'টো ঐ অবস্থাতেই রেখে দিতে বললেন। তিনি আরো বললেন, তার কাপড় যেন খুবই মার্জিত এবং সতর্কতার সাথে কাটা হয়। তিনি স্বরণ করিয়ে দিলেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তি সেভাবেই পুনরুত্থিত হবে, যে অবস্থায় সে মৃ'ত্যবরণ করেছে। অতএব এই তরুণী সালাতে দন্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর সামনে পুনরুত্থিত হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার মত হওয়ার তওফিক দান করুন।
.
কিছুক্ষণ পর, সে আবার শাইখকে ফোন করে জানালো যে, এবার আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে বললো, ঐ তরুণীর কা'ফ'নের কাপড় অনেকখানি লম্বা পাওয়া যাচ্ছে। এটি একটু অস্বাভাবিক। কারণ কাফন সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মাপে আগেই বানানো অবস্থায় পাওয়া যায়। শাইখ তাকে বললেন, কা'ফন লম্বা বলতে সে কী বুঝাচ্ছে? সে বললো, কা'ফনটি প্রায় দেড় মিটারেরও বেশি লম্বা। যা মোটেই স্বাভাবিক নয়। শাইখ আবার তাকে ঐ তরুণীর পরিবারের কাছে জিজ্ঞেস করতে বললেন যে, সে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন কিছু করতো কিনা।
.
মৃ'তের বোন জানালো, সে প্রায় প্রত্যেক সালাতেই খুব অদ্ভুত এক দু'আ করতো। দু'আটি হলো:
.
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﺍﻟﻠﻬﻢ
ﺍﺳﺘﺮﻧﻲ ﻭ ﺍﺟﻌﻞ ﻛﻔﻨﻲ ﺯﻳﺎﺩﺓ
.
(আল্লাহুম্মাসতারনী, আল্লাহুম্মাসতারনী ,আল্লাহুম্মাসতারনী ,ওয়াজা আ'ল কাফানী যিয়াদাতান।)
সাধারণ অনুবাদে এর অর্থ দাঁড়ায় : হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে আবৃত করে দিন এবং ঢেকে রাখুন। আমার কাফন বৃদ্ধি করে দিন।
.
আল্লাহু আকবার! সাধারণ একজন গ্রাম্য তরুণী কতদূর পর্যন্ত চিন্তা করে ফেলেছে একবার ভেবে দেখুন। আমাদের মধ্যে কতজন আমাদের কাফন নিয়ে চিন্তা করি? এসব বিষয় নিয়ে আদৌ কী কেউ মাথা ঘামায়? কিন্তু এই পূণ্যবতী তরুণী, যে কিনা মৃত্যুর পরও নিজেকে সেভাবেই আবৃত রাখতে চেয়েছিল যেভাবে জীবিত অবস্থা