যখন মানুষ দুনিয়া থেকে পরপারের পথে যাত্রা করবে, দুনিয়া অতীত হয়ে যাবে এবং সে আখিরাতের মুখোমুখি হবে; তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি তাকে সামান্য সুযোগ দেয়া হতো! তাহলে দুনিয়ায় যে সময়গুলো সে নষ্ট করেছে, সেগুলো সে পরিশুদ্ধ করে নিত এবং যেগুলো সে ছেড়ে এসেছে সেগুলো সে অর্জন করে নিত। কিন্তু না! তা কখনোই সম্ভব নয়। সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন উত্তরের পালা। অচেতনতার সময় শেষ, সচেতন হওয়ার সময় শুরু। তাই মানুষ যদি এই বিষয়গুলো চিন্তা করে, তাহলে তার দীর্ঘ আশাগুলো সংকুচিত হয়ে আসবে, সময়ের প্রতি যত্নবান হবে। তাই কবি বলেন,
‘অবসর সময়ে নফল স্বলাতের প্রতি গুরুত্ব দাও, হতে পারে সহসা তোমার মুত্যু উপস্থিত হবে।
কত সুস্থ লোককে দেখেছি, কোনো রোগব্যাধি ছাড়াই তার প্রিয় আত্মা বের হয়ে গেছে।’
হে ভাই, তোমার একটি দিনের একটি মুহূর্ত চলে যাওয়ার মানে হলো, তোমার জন্য নির্ধারিত আয়ুর একটি অংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে। কবি বলেন:
‘যেদিন তুমি দোলনায় ছিলে, সেদিন থেকেই আমি তোমাকে অপূর্ণতায় দেখছি,
তখন থেকেই তোমার একেকেটি মুহূর্ত তোমাকে কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’
হ্যাঁ! বাস্তবতা এমনই। আমাদের একেকটি বিশাল নিশ্বাস আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা জানিও না, সেই মৃত্যু কখন সংঘটিত হবে! সুতরাং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কাজ কি এই নয় যে, হঠাৎ করে মৃত্যু গ্রাস করার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা?
.
“সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন?” বই থেকে..
