[সৌদি রাষ্ট্র কর্তৃক নর্তকীদের দ্বারা কাবার অবমাননা]
---লিখেছেন: শায়েখ أحمد الدمنهوري حفظه الله
জাতির ধ্বংস সাধন শুরু হয় নৈতিক পতনের মাধ্যমে। আত্মমর্যাদাহীনতা, নিজেকে দুর্বল ও পরাধীন মনে করা, স্বাধীনতা ও প্রতিযোগিতার আকাঙ্ক্ষার অভাব, এবং সেই সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ থাকা যা অন্যরা নির্ধারণ করেছে—এসবই জাতির পতনের সূচনা চিহ্ন।
নৈতিক অপমান মানে ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া। বিজয়ী কখনো শত্রুর ইচ্ছাশক্তি ভেঙে না দিয়ে জয়লাভ করতে পারে না। তবে কি এখন আমরা যে জাতিগত নৈতিক পতন দেখছি, তা কি শারীরিক ধ্বংসের পূর্বাভাস? জাতি কি নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শারীরিকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে?
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম জাতির ধ্বংস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:
"أوَّلَ النَّاسِ هلاكًا فارسُ ، ثم العَرَبُ ، إلَّا بقايا هاهنا يعني : الشَّامَ"!
"সবচেয়ে আগে ধ্বংস হবে পারস্য, তারপর আরব, তবে কিছু অংশ টিকে থাকবে—তারা শামের লোক।"
(আল ফিতান লি নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ:৫৬, আহমাদ: ১০৬৫৫, ২৪৪৫৭, বাজ্জার: ৯৬৫২, ৯৬৬২। বাজ্জার আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনার (৯৬৬২) রাবীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন)
তিনি আরও বলেছেন,
(ولن يَستَحِلَّ البيتَ إلَّا أهلُه، فإذا اسْتَحَلُّوه ؛ فلا تَسأَلْ عن هَلَكةِ العَرَبِ)
"কাবা ঘরের প্রতি অবমাননা করবে শুধু তার লোকেরা। আর যখন তারা তা করবে, তখন আরবের ধ্বংস সম্পর্কে প্রশ্ন করো না।" (আহমাদ:৭৯১০, ৮১১৪, ৮৩৫১, ৮৬১৯, সনদ সহীহ)
এখানে বোঝা যায়, কিছু ঘটনা সংঘটিত হবে যার মাধ্যমে জাতির একাংশ ধ্বংস হবে, তারপর আরেক অংশ। আরবদের ধ্বংসের দুটি চিহ্ন দেওয়া হয়েছে:
১. পারসিদের ধ্বংস।
২. কাবাঘরের পবিত্রতার লঙ্ঘন।
এই উভয় ঘটনাই অনেক দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। পারমাণবিক প্রকল্পসহ ইরানের বিরুদ্ধে কাজ চলছে, আর কাবাঘরের চারপাশে তার মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের রোগ নির্ণয় করে তা থেকে বাঁচার চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
"যখন তোমরা সুদের মাধ্যমে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ ধরে কৃষিকাজে মত্ত হবে, এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান চাপিয়ে দেবেন যা তিনি সরাবেন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজের ধর্মে ফিরে আসো।"
এখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। "গরুর লেজ অনুসরণ করা এবং কৃষিকাজে সন্তুষ্ট থাকা" বলতে বোঝানো হয়েছে এমন জীবনধারা, যেখানে মানুষ দুনিয়ার আরাম-আয়েশে নিমগ্ন থাকে। আজকের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অবস্থাও এমন, যেখানে তারা মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত সম্পদে সন্তুষ্ট এবং তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এর মূল রোগ হলো—দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং তার স্থায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা।
আর চিকিৎসা হলো—জিহাদ। জিহাদ মানে এখানে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প গ্রহণ করা যার মাধ্যমে জাতি প্রতিযোগিতার ময়দানে টিকে থাকতে পারে। যখন সেই প্রকল্প প্রতিযোগিতার পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা সামরিক শক্তির মাধ্যমে রক্ষা করার প্রয়োজন হবে, যেমনটি অন্যান্য জাতিগুলো করে।
আজকের মুসলিম জাতির সমস্যা হলো তাদের কোনো আন্তর্জাতিক প্রকল্প নেই, তাদের নেতারা দিশাহীন। তাই যুবসমাজ বিভ্রান্ত, কেউ হতাশায় ভুগছে, কেউবা শারীরিক ভোগ-বিলাসে মত্ত। আর কিছু নেতা এমন আচরণ করছেন, যেন তারা টিকে থাকার জন্য শুধু জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করাই যথেষ্ট মনে করছেন। এটি একেবারে "মুলূকুত তাওয়াইফ" (ছোট ছোট স্বার্থান্ধ রাজ্যসমূহের যুগ)-এর শেষ সময়ের মতো।
যদি জাতির একটি সমষ্টিগত লক্ষ্য থাকত, তাহলে যুবসমাজের শক্তি তুচ্ছ বিষয়ের পেছনে নষ্ট না হয়ে সেই লক্ষ্যে ব্যবহৃত হত। জাতি তখন এই হতাশা থেকে বের হয়ে এসে বিশ্বব্যাপী নীতির পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত।
যে জাতির নিজস্ব প্রকল্প নেই, সে অন্যদের প্রকল্পের অংশ হয়ে থাকবে। এটাই বাস্তবতা, এবং তা আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
©