একদিন ইব্রাহীম (আঃ) আজরাঈল (আঃ)-কে বলেন, ভাই আজরাঈল আপনি পাপীগণের জান কবজ করার সময় যে ছুরাত ধরেন আমি আপনার সেই ছুরাত দেখিতে চাই। আজরাঈল (আঃ) বলেন, আপনি তাহা দেখে সহ্য করতে পারবেন না। ইব্রাহীম (আঃ) বলেন, আমি তাহা সহ্য করে নেব। তখন আজরাঈল (আঃ) বলেন, আপনি অন্য দিকে ফিরুন। ইবরাহীম (আঃ) মুখ ফিরাইয়া দেখেন, মাথা আকাশ পর্যন্ত পা জমিনে, এক হাত দুনিয়ার পূর্ব মাথায়, আর এক হাত পশ্চিম মাথায়, দুই চক্ষু নীল রঙ্গের ২টা দিঘীর মত বড় বড়, খুব মোটা ভীষণ বিশ্রী, জমকালো পশমসমূহ খাড়া খাড়া কাটার মত। মাথায় মোটা মোটা লোহার শিকের মত রূক্ষ্ম কেশ, উর্ধ্বমুখী হয়ে আছে। পরিধানে কৃষ্ণবর্ণের পোশাক, মুখ হইতে ধূম ও অগ্নি শিখা ঝলকে ঝলকে বাহির হইতেছে। নাক কান হইতে আগুনের ফুলকি সমূহ বাহির হইতেছে। এই ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখে নবী (আঃ) অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। বহুক্ষণ পর তিনি জ্ঞান লাভ করে বলেন, এই ভীষণ মূর্তি দর্শনই পাপীদের জন্য প্রচুর শাস্তি। হায়রে নীল রঙ্গের চক্ষু দুইটি যখন ঘুরানি মারবে তখন রূহ ভয় পাইয়া তিনশত ষাটটা মোকামে দৌড়াইতে থাকবে। আল্লাহ্ পাকের নেককার বান্দাগণ এই বিপদ হইতে রক্ষা পাইবে। মৃত্যুর সময় প্রত্যেকেরই নিজ নিজ পাপ লেখিবার উভয় ফেরেশতাকে স্বচক্ষে দেখতে পাইবে। নেককার হইলে ফেরেশতারা তাহাকে বলে حَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا (জাযাকাল্লাহু খাইরা) আল্লাহ্ পাক তোমাকে উত্তম বিনিময় দেউক। তুমি আমাদের সামনে প্রচুর সৎকাজ করে আমাদিগকে আরাম দিয়াছ, আর পাপী হইলে তাহারা বলবে, (মা জাযাকাল্লাহু খাইরা) আল্লাহ পাক তোমাকে ভালো বিনিময় দান না করুক, তুমি আমাদের চক্ষের সামনে বহু পাপ কাজ করেছ। এই কথা শুনা মাত্র পাপী ব্যক্তির চক্ষু উর্ধ্বমুখী হয়ে খুলে থাকবে। সে চক্ষু আর বন্ধ হবে না।
মৃত্যুর সময় নিজের বাসস্থান দেখতে পায়। নেককার হইলে আজরাঈল (আঃ) বলেন, হে আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি, তোমাকে বেহেশতের সুসংবাদ দিতেছি, তোমার বাসস্থান বেহেশতে। আর গোনাহগার হইলে আজরাঈল (আঃ) বলেন, হে আল্লাহ্ পাকের শত্রু, তোমাকে দোজখের দুঃসংবাদ দিতেছি, তোমার বাসস্থান ঐ যে দোজখে। এই বিভীষিকা দর্শনে যে যন্ত্রনা ও -দুঃখ অনুভব হইবে তাহা মৃত্যু যন্ত্রনার সহিত মিলিত হইয়া বহুগুণে বাড়াইয়। দিবে। এই সমস্ত যন্ত্রনার হাত হইতে আল্লাহ পাকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।