"ব্যোমকেশ বক্সী", শরবিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের কালজয়ী গোয়েন্দা উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র। সেই ১৯৩২ সালের চরিত্র এটি।
.
না উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করতে আসি নি৷ এই গল্পের দু'টো চরিত্র ও ব্যোমকেশ বক্সী নিয়েই আলোচনা।
.
বইতে ব্যোমকেশ বক্সী নিজেকে গোয়েন্দা পরিচয় থেকে 'সত্যান্বেষী' পরিচয় দিতে বেশি ভালোবাসে৷
.
এই সত্যান্বেষী চরিত্রের বউ 'সত্যবতী' ও আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি বন্ধু ' অজিত' কে নিয়েই তার জগৎ।
.
 ৩ জন একই বাসায় থাকে, একই সাথে অজিত ও ব্যোমকেশ বক্সী কেইস সলভ করে। অজিত ব্যোমকেশ বক্সীর বউকে
" বউঠান" বলে সম্বোধন করে। সত্যবতী ও অজিতের মধ্যে 'খুনসুটি' থাকে, একে অপরের সাথে 'ঠাট্টা-মজা' করে ও মাঝে মাঝে অজিত সত্যকে টাচ করে ফেলে, সত্যও অজিতকে।
.
ওহ হ্যাঁ বলে রাখা ভালো এখানে অজিত পিওর সিংগেল থাকে। নারীসঙ্গ পায় নি৷ ব্যোমকেশ বক্সী ও অজিতকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে বউ ও বন্ধুকে মাঝেমধ্যে একা ফেলে রাখে৷
.
গল্পের প্রেক্ষাপট প্রায় একশো বছর আগের। ধরে নিলাম তখন জমানা খুব ভালো ছিল, মন পবিত্র থাকতো, অশ্লীলতার স্রোত তখনও বহে নি। কিন্তু এখন কি এরকম হবে?
.
কয়েকটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরা স্বাভাবিক।
 যে সারাজীবন নারীসঙ্গ পায় নি সে কিভাবে এতোদিন নিজেকে কন্ট্রোল করে রেখেছে যেখানে "ভাবী ও দেবরের" খুনসুটি দেখা যায়,টাচ করে?
.
আর যখন একজন পিওর 'virgin' ছেলেকে কোনো নারী টাচ করে শরীরে শিহরণ বয়ে যায়৷ একটা ছেলের জন্য নারীর কথা,হাসি,চোখ,স্পর্শ, কাপড়, চুল,হাত-পা সবই তার জন্য এট্রাক্টিভ৷
.
কিভাবে দিনের পর দিন একজন নারী তার সাথে দুষ্টু মিষ্টি আলাপ করবে আর মনের মধ্যে চিন্তা আসবে না?  স্বাভাবিক ছেলে হলে এরকম ঘটবেই।
.
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম অজিত খুবই ভালো ছেলে,তার মনের মধ্যে কোনো 'কু' নেই কিন্তু এখন কোনো বন্ধু যদি তার বউ একই ছাদের নিচে বহুদিন থাকে তাহলে বন্ধু কিংবা বন্ধুর বউয়ের মধ্যে খারাপ চিন্তা বা অল্প হলেও ভাব বিনিময় হবে না? বেশি না, স্বল্প আকারেও সম্ভব না? যদি সম্ভব না হয় তাহলে হয় মিথ্যা বলছে অথবা "যান্ত্রিক ত্রুটি" রয়েছে।
.
এ যুগের ছেলেদের মধ্যে হাজারো রকম ডার্ক ফ্যান্টাসি থাকে যা কল্পনাও করতে পারবেন না কি পরিমাণের জঘন্য লেভেলের সেগুলো। এ-যুগের ছেলেদের মধ্যে অজাচার( ভাই-বোন, পিতা-মেয়ে,মা-ছেলের মধ্যেকার শারীরিক সম্পর্ক) কিংবা পে_ডো_ফাইল( বাচ্চাদের সাথে যৌ_না_চার) টাইপ ফ্যান্টাসি পোষণ করে। সেখানে একজন নরমাল দেবর-ভাবীর মধ্যে সম্পর্ক বা ফ্যান্টাসি হওয়াটা তো মামুলি ব্যপার। [১]
.
দেবর' শব্দের মূলরূপ 'দ্বেবর' যার অর্থ দ্বিতীয় বর। এই শব্দের উৎপত্তি হয়েছে হিন্দু ধর্মের জঘন্যতম 'সতীদাহ' প্রথা হতে। [ নিরুক্ত-৩/১৫)]
.
গৃহস্থ স্ত্রী-পুরুষ [স্বামী-স্ত্রী] সদা প্রেমের সহিত থাকা উচিৎ। যেরূপ বিবাহ কালে বর-বধূ স্নেহ করে সেইরূপ স্নেহময় হওয়া উচিৎ। কদাচিৎ মৃত্যু আদি কারণ বশত যদি দুজনের বিয়োগ হয়ে যায় তাহলে সন্তান লাভের ইচ্ছা হলে নিযোগ দ্বারা সন্তানলাভ করতে পারবে।[ঋগ্বেদ-১০/৪০/২)] [২]
.
সনাতন ধর্মমতে দেবরকে দ্বিতীয় স্বামী বলা হয়েছে এবং সেখান থেকেই এটির উৎপত্তি। তাদের মধ্যে আকর্ষণ হবে না একসাথে থাকলে তা অসম্ভব।
.
ভাবী ফ্যান্টাসি, ভাবী নিয়ে এডাল্ট জোক্স সমাজের মধ্যে অহরহ হচ্ছে। "ভাবী মায়ের মতো", "দেবর ভাইয়ের মতো" টাইপ কথা প্রচার করছে আর দিনশেষে পরকিয়ার মতো জঘন্য কাজ হচ্ছে।
.
আগুন আর কেরোসিনের বিস্ফোরণ ঘটাতেই উঠে পরে লেগে থাকে পাশ্চাত্য মিডিয়া, ইন্ডিয়ান মুভি,টিভি-সিরিজ বা আমেরিকান মুভিগুলো। এদের মূল উদ্দেশ্যেই থাকে মুভি তে ' সে_ক্সু_য়াল সিন' দেখানো। এতে করে বহু মানুষ নানান রকমের ফ্যান্টাসি তে ভুগে৷ বন্ধুর স্ত্রীকে রে_ই_প, বন্ধুর স্ত্রীর সাথে পরকিয়া ইত্যাদি টাইপ শিরোনামে ভরপুর পত্রিকাগুলো।
.
এসব সমস্যা শুরু হয় শুধুমাত্র " দেখাদেখির" কারণে। কারণ এসব কাজের শুরুতেই কেউই কাউকে চিনতো না। দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে,চেহারা দেখে ভালো লেগেছে এর পর বাকি কাজ৷
.
নিজের স্ত্রীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে কতগুলো পুরুষের লালসার শিকার বানাচ্ছেন আপনার স্ত্রীকে তা কল্পনাতীত। বাইরে দিয়ে "মাশাল্লাহ" টাইপ কমেন্ট করলেও সুন্দরী বউকে নিয়ে নানান ধরনের ফ্যান্টাসিতে ভুগে না তার কি নিশ্চয়তা আছে?
.
অনেক স্বামী নিজের বউয়ের ছবি নেট দুনিয়ায় দেয়াকে 'Coolness' মনে করে আর কেউ যদি নিজের স্ত্রীকে কাউকে দেখাতে না চায় তাকে ' Mys_ogynist' ঘোষিত করে দেয়া হয়৷ দিনশেষে কুল মানুষের বউদেরই পর_কি_য়ার সংখ্যা অনেক বেশি হয়।
.
সিদ্ধান্ত আপনার, " বউকে নিজেরই রাখবেন না-কি পাড়া-পরশিকেও ভাগ দিবেন"।

স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও

 স্বামীর পিতা চিরকালের জন্য মাহরাম - এমনকি তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও প্রশ্ন: কোনও মহিলার তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও কি তার স্বামীর পিতা (তার শ্বশুর...